সর্বোচ্চ গোলদাতার পরিসংখ্যানে পেলেকে ছাড়িয়েছেন রোনালদো

‘ইতিহাস মুছে দেওয়া যায় না’, পেলেকে ছাড়িয়েছেন রোনালদো
‘ইতিহাস মুছে দেওয়া যায় না’, পেলেকে ছাড়িয়েছেন রোনালদো

পেলেকে ছাড়িয়েছেন রোনালদো,  রেকর্ডটি নিয়ে গত জানুয়ারি থেকেই চলছিল তোলপাড়। তবে গত কাল এই পরিসংখ্যার সমাপ্তি ঘটে। বর্তমানে ফুটবল ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো।

তবে স্রেফ এটুকুতেই শেষ হয়ে যায়নি সেই আলোচনা। রোনালদোর এই রেকর্ড নিয়ে ছিল নানা বিতর্ক-সংশয়।

রোনালদো নিজেও যে খুব উচ্চকিত ছিলেন তা নয়। অবাক করা ব্যাপারটির আসল কারণ এতদিনে ভক্তদের সামনে এলো।

পর্তুগিজ এই তারকা তার ভক্তদের জানালেন, তিনি অপেক্ষায় ছিলেন পেলেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার।

অফিসিয়াল হিসাবে যদিও অনেক আগেই পেলেকে ছাড়িয়েছেন রোনালদো ।

সেই পরিসংখ্যান অনুসারে, পেলের অফিসিয়াল গোল হচ্ছে ৭৫৭টি।

আর ৭৫৯ গোল নিয়ে শীর্ষস্থানে ছিলেন অস্ট্রিয়া ও চেকোশ্লাভাকিয়ার (সেই সময়কার) ফুটবলার ইয়োসেপ বিকান।

মাস দুয়েক আগেই রোনালদোর গোল সংখ্যা পৌছে ৭৬০টিতে।

ক্লাব ও জাতীয় দল দুয়ে মিলিয়ে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি তখনই নানা জায়গা থেকেই দিয়ে দেওয়া হয় রোনালদোকে।

কিন্তু সেই রেকর্ড নিয়ে দ্বিমত ছিল অনেকেরই।

চেক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, বিকানের ক্যারিয়ার পুণরায় পর্যালোচনা করে তারা এই স্ট্রাইকারের গোল সংখ্যা পেয়েছেন ৮২১টি!

পেলের নিজস্ব মতামত, তার অফিসিয়াল গোল ৭৬৭টি। সাও পাওলোর রাজ্য দলের পক্ষ হয়ে ৯টি এবং ব্রাজিলের সামরিক দলের পক্ষ হয়ে তার ১টি গোল অফিসিয়াল হিসেবে বিবেচনার বাইরে রাখা হলেও তা অফিসিয়াল বলেই দাবি এ খেলোয়াড়ের।

আবার, ফুটবল পরিসংখ্যানের মোটামুটি বিশ্বস্ত সংস্থা হিসেবে পরিচিত রেক.স্পোর্ট.সকার স্ট্যাটিসটিকস ফাউন্ডেশনের মতামত, পেলের অফিসিয়াল গোল আসলে ৭৭৫টি।

পেলের নিজের করা দাবির বাইরেও সাও পাওলোর নির্বাচিত দল এবং সামরিক দলের পক্ষ হয়ে তার আরও ৮টি গোল সংস্থাটি খুঁজে পেয়েছে।

কিন্তু বিপত্তির ব্যাপার হলো, সর্বজন স্বীকৃত অফিসিয়াল কিছু ফুটবল পরিসংখ্যানের ভিতরে নেই।

কারণ এখনকার মতো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিসংখ্যানের এত খুঁটিনাটি বিস্তারিত হিসাব রাখা হতো না একসময়।

আগের যুগের অনেক কিছুই তাই এখন বাদ পড়ে গেছে, রয়ে গেছে আড়ালে, কিংবা হয়ে আছে ধোঁয়াশা।

তবে অফিসিয়াল হিসাব কিংবা বিতর্ক যেটাই হোক, রোনালদো নিজেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন পেলের দাবিকেই।

জানুয়ারিতে ৭৬০ গোল হওয়ার পরও তাই তিনি তা উৎযাপন করেননি। অপেক্ষার প্রহর গুণছিলেন পেলের দাবি করা ৭৬৭ গোল ছাড়িয়ে যাওয়ার।

রোববার সেরি আর ম্যাচে কাইয়ারির বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে অবশেষে কাঙ্ক্ষিত মাইলফলক পারি দেন রোনালদো। পেলেকে ছাড়িয়েছেন রোনালদো , আর এখন তার গোল সংখ্যা ৭৭০টি।

ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ একটি পোস্ট দিয়ে রোনালদো জানান তার ভাবনার কথা।

তার ভাবনামূলক লেখার সবিশেষ তুলে ধরা হলো এখানে।

“ গত কয়েক সপ্তাহে বেশ কতগুলো খবর এবং পরিসংখ্যানে ভরে গেছে যে, পেলের ৭৫৭ অফিসিয়াল গোলকে টেক্কা দিয়ে আমি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসের শীর্ষ স্কোরার হয়ে গেছি।

যদিও সেই স্বীকৃতির জন্য আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ, তবে এখন সময় এসেছে ব্যাখ্যা করার যে,  কেন আজকের আগ পর্যন্ত আমি সেই রেকর্ডকে নিজস্ব বিবেচনায় নেইনি।”

“এদসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তোর (পেলে) প্রতি আমার চিরস্থায়ী এবং শর্তহীন অনুরাগ, বিংশ শতাব্দীর মধ্য ভাগের ফুটবলের প্রতি আমার শ্রদ্ধার পরিমাণ এতটাই যে, সাও পাওলো রাজ্য দলের হয়ে তার করা ৯ গোল ও ব্রাজিলিয়ান সামরিক দলের হয়ে করা ১ গোল ধরে তার সেই ৭৬৭ গোলকেই আমি বিবেচনায় ধরেছি।

আরো পড়ুন:
সত্যিই কি মেসি-রোনালদো যুগের সমাপ্তি হতে যাচ্ছে?

সেই সময় থেকে এখন পৃথিবী প্রচুর বদলে গেছে, ফুটবলও পাল্টেছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা নিজেদের সুযোগ-সুবিধামতো ইতিহাস মুছে ফেলতে পারি। ইতিহাস মুছে দেওয়া যায় না।”

“আজকে, আমার পেশাদার ক্যারিয়ারের ৭৭০ অফিসিয়াল গোলে পৌঁছানোর পরে, আমার প্রথম কথাগুলো সরাসরি পেলের জন্যই।

ফুটবলবিশ্বে এমন কোনো খেলোয়াড় নেই যে, পেলের খেলা, তার গোল বা অর্জনের কথা শুনে বড় হয়ে ওঠেনি।

আমিও তার ব্যতিক্রম নই। আর এই কারণেই আমার এখন উচ্ছ্বাস ও গর্বের কোন কমতি নেই যে, পেলের রেকর্ড ছাড়িয়ে ফুটবলের গোলের তালিকায় বর্তমানে আমি শীর্ষে। মাদেইরায় (রোনালদোর জন্ম শহর) বেড়ে ওঠার দিনগুলিতে যা কখনও আমি কল্পনাতেও আনতে পারিনি।”

“আমার সঙ্গে এই অসাধারণ ভ্রমণের যারা সঙ্গী ছিলেন, তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমার সকল সতীর্থ, আমার প্রতিপক্ষরা, বিশ্বজুড়ে এই নান্দনিক খেলাটির যেসব ভক্ত-সমর্থক এবং সবকিছুর ওপরে আমার পরিবার এবং আমার কাছের বন্ধুরা.. বিশ্বাস করুন, আপনাদের ছাড়া এই জায়গায় আমি পৌছতে পারতাম না।”

“ এখন পরবর্তী ম্যাচ এবং সামনের চ্যালেঞ্জ, পরের রেকর্ড ও পরবর্তী ট্রফিগুলেরার জন্য আর তর সইছে না আমার!

বিশ্বাস করুন, আমার এই যাত্রার গল্প শেষ হতে এখনও ঢের বাকি! ভবিষ্যৎ সামনেই এবং ইউভেন্তুস ও পর্তুগালের হয়ে জয়ের জন্য অনেক কিছু করার এখনও বাকি রয়েছে।”

“আমার সঙ্গে এই ভ্রমনের সঙ্গী হয়ে যোগ দিন! চলুন, সামনের দিকে এগিয়ে যাই!”

রোনালদোর ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিকের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি দিয়ে আবেগঘন লেখায় অভিনন্দন জানান পেলে নিজেও।

curious

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন