জ্বরঠোসা কি? কেন হয়? জানুন এর কারণ ও প্রতিকার

জ্বরঠোসা কি_ কেন হয়_ জানুন এর কারণ ও প্রতিকার
জ্বরঠোসা কি_ কেন হয়_ জানুন এর কারণ ও প্রতিকার

লোকমুখে প্রচলিত ভেতরে ভেতরে জ্বর আসলে জ্বরঠোসা হয়। কিংবা ঠান্ডা লাগলেও অনেক সময় জ্বরঠোসা হয়ে থাকে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে অন্যকথা।

চিকৎসকরা একথা মানতে রাজি নয়। তাদের ভাষায়, ঠোঁটের কোণে একগুচ্ছ ফুসকুড়ি অথবা কোনও কারণবশত ঘা হলে তাকে বলা হয় জ্বরঠোসা।

চিকিৎসাবিজ্ঞান পরিভাষায় যার নাম ফিভার ব্লিস্টার (Fever Blister)।

এই ফুসকুড়ি ওঠার ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই তা ঘায়ে পরিণত হয়। ঘা থেকে শুরু হয় প্রচন্ড ব্যাথা, অনেক সময় রসও গড়ায়।

এই ব্লিস্টারের প্রভাবে ব্যথা অনুভব হলে তাকে বলে কোল্ড সোর।

জ্বরঠোসা সাধারণত শীতকালে একটু বেশিই দেখা যায়।

জ্বরঠোসার লক্ষণ-

ঠোটের কোণায়, বর্ডারে কিংবা বর্ডারের আশেপাশে গুচ্ছ-বদ্ধ ফুসকুড়ি, জ্বর, ব্যথা, বমিভাব কিংবা বমি, মাথাব্যথা, জ্বলা, মুখ বা চোয়াল খুলতে ব্যাথা অনুভব করা।

এবং একই সঙ্গে খেতে অসুবিধে। ঠোঁটে/জিহ্বায় জ্বালা করা। ঠোঁট বারবার রুক্ষ হয়ে যাওয়া ইত্যাদি।

কেন জ্বরঠোসা হয়?

জ্বরঠোসা হয় ফিভার ব্লিস্টার এর কারণে। এই ফিভার ব্লিস্টার আক্রমণ করে HSV-1 বা Herpes simplex Virus নামক ইনফেকশন এর মাধ্যমে।

এবং এই ইনফেকশনই আমাদের জ্বর অনুভূত করায়।

তবে হ্যাঁ, একটা কথা সত্যি। জ্বরের কারণেও ফিভার ব্লিস্টার হতে পারে, যদি সেই জ্বর অন্যকোন এমন ইনফেকশনের কারণে হয় যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয়।

আবার দেখা যায়, ভিটামিন সি এবং ডি এর অভাব থেকেও কিন্তু জ্বরঠোসা হয়।

প্রতিকারের উপায়:

একবার জ্বরঠোসা হয়ে সেরে গেলেও HSV-1 স্নায়ুকোষে লুকিয়ে থাকে। যা জীবনে বারবার প্রকাশ ঘটায়।

তাই চলুন দেখে নিই ঘরোয়া উপায়ে কীভাবে এই সমস্যার থেকে প্রতিকার করা যায়-

বরফ:

যে জায়গায় ঘা হয়েছে সেই জায়গা নখ দিয়ে খুঁটানো একদম উচিৎ নয়। এতে ব্যাথা এবং ইনফেকশন আরও বাড়বে।

তারচেয়ে বরং বরফ দিয়ে প্রেস করুন। বরফ দিয়ে কিছুক্ষণ চেপে ধরলে ব্যথা অনেকটাই কমবে।

এবং একইসঙ্গে অন্য কোনও স্থানে সংক্রমণের ভয়ও থাকবে না।

তবে বরফ সরাসরি প্রেস না করে, কোনও টাওয়ালে বা সুতির কাপড়ে রেখে চেপে লাগাতে হবে।

পাঁচ মিনিট ধরে চেপে রাখুন। এভাবে ১৫ মিনিট যাবৎ প্রেস করে যেতে হবে।

লেমন এসেন্সিয়ল অয়েল:

সরাসরি লেবু না লগিয়ে, লেবু রয়েছে এমন এসেন্সিয়ল অয়েল তুলো দিয়ে ক্ষতস্থানে চেপে চেপে লাগাতে হবে।

তারপর ওখানে অয়েন্টমেন্ট জাতীয় কোন ওষুধ লাগিয়ে নিন।

রসুন:

এরকম সমস্যা বেশি হলে, এবং তা দূর করতে বেশি বেশি রসুন খান।

প্রতিদিন গরম ভাতের সঙ্গে রসুন আর কাঁচা মরিচ ভেজে খাওয়া যেতে পারে। বা খান রসুনের আচার।

আরো পড়ুন:
প্রচুর পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোট্ট কিসমিস
অর্থের সঠিক ব্যবহার

কিংবা কাঁচা রসুনও খাওয়া যেতে পারে।

এছাড়াও রসুনের কোয়া বেটে ক্ষতস্থানে প্রলেপ দিলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

টি ট্রি অয়েল:

মুখের যে কোনও রকম সমস্যা সমাধানে টি ট্রি অয়েল অত্যন্ত উপকারী।

এই অয়েল মুখ এবং ত্বক ভালো রাখে। আবার যে কোনও ইনফেকশন থেকেও মুখ,ত্বককে রক্ষা করে।

গোসল করে অথবা মুখ ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার তুলোয় নিয়ে টি ট্রি অয়েল লাগান।

১৫ দিনের মধ্যেই অবিশ্বাস্য পরিবর্তন লক্ষ করবেন।

অ্যাপেল সিডার ভিনিগার:

আগেই আমরা দেখেছি ভিটামিনের অভাব হলেও কিন্তু জ্বরঠোসা হয়।

আর এজন্য প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার।

লেবু, আমলকি ভিটামিন সি এর বড় উৎস। গোটা অথবা জুস যে কোনও একটা অবশ্যই খান।

যদি প্রতিদিন অ্যাপেল সিডার ভিনিগার খাওয়া যায়, তাহলেও খুব ভালো উপকার পাওয়া যাবে।

এতে শরীরে ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে। আবার ভেতর থেকে সুস্থও থাকবে, এবং রোগ  প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

curious

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন