বিশ্বের সবচাইতে নিরাপদ বিমান – এয়ার ফোর্স ওয়ান

বিশ্বের সবচাইতে নিরাপদ বিমান - এয়ার ফোর্স ওয়ান
এয়ার ফোর্স ওয়ান

আপনি হয়তো যেনে থাকবেন পৃথিবীর সর্বাধিক নিন্ম ঝুকির পরিবহন হচ্ছে প্লেন জার্নি। যার মধ্যে থেকে আবার  বিশ্বের সবচাইতে নিরাপদ প্লেনটি হচ্ছে এয়ার ফোর্স ওয়ান ।

যেই প্লেনটিকে শুধুমাত্র ব্যবহার করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের ভ্রমণের জন্য। আজ আমরা জানবো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমান সম্পর্কে-

এয়ার ফোর্স ওয়ান হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিশেষ বিমান। যার কাজ হল আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ও তার সফর সঙ্গীকে বহন করা।

এই বিমান রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করে থাকেন প্রেসিডেনসিয়াল এয়ারলিফট গ্রুপ।

যা হোয়াইট হাউস মিলিটারি অফিসের একটি অংশ। ১৯৯০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরকারগুলো বোয়িং সিরিজের এয়ার ক্রাফট ব্যবহার করে আসছে।

যা সেই দেশটির শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টের জন্য  বিশেষ ভাবে নির্মিত।

সবশেষ এয়ার ফোর্স ওয়ান বোয়িং সিরিজের যে মডেলটি ব্যবহার করছে সেটা হল বোয়িং ৭৪৭-২০০ বি  (Boeing 747-200B) সিরিজ।

এর সিরিয়াল নাম্বার হল ২৮০০০ ও ২৯০০০।

এক্ষেত্রে অবশ্য এই বিমানটিকে তখনি এয়ার ফোর্স ওয়ান বলে গণ্য করা হয় যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট স্বয়ং নিজে এই প্লেনটিতে ভ্রমণ করে থাকেন।

অন্যথায় মি. প্রেসিডেন্ট যেই বিমানে ভ্রমণ করবেন সেটিকেই এইয়ার ফোর্স ওয়ান বলে ডাকা হবে।

এর আগে সর্বপ্রথম ১৯১০ সালের ১১ অক্টোবর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে থিওডোর রুজভেল্ট বিমানে আরোহণ করেন।

সে সময় গোটা আমেরিকা জুড়ে এই বিষয়টি বিপুল পরিমাণে সাড়া ফেলে এবং এখান থেকেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান সফরের শুরু।

এছাড়াও ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর  আমেরিকার ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি এক সন্ত্রাসীর হাতে নিহত হবার পরে তার মরদেহ টিকেও এই এয়ার ফোর্স ওয়ানে করেই বহন করা হয়েছিল।

এর আগে ১৯৬০ সালে এই প্লেন্টির রং নিয়ে অনেক দ্বিধায় পরতে হয় বিমানটির ডিজাইনারদের।

তখন প্লেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি  তাদের কে বলেন প্লেনটির কালার যেন নীল রাখা হয়। কারণ নীল রং ছিল জন এফ কেনেডি প্রিয় রং ।

দূর থেকে এয়ার ফোর্স ওয়ানের দিকে তাকালে এটিকে আট দশটা সাধারণ বোয়িং ৭৪৭ এর মত দেখতেই মনে হবে।

তবে এই বিমানের ভেতরে যে সকল জিনিস রয়েছে তা শুনলে হয়ত আপনার চোখ অনেকটাই কপালে উঠেবে।

৪০০০ হাজার বর্গ ফুট জায়গা বিশিষ্ট এই বিমানটি বেশ কয়েকটি ইউনিটে বিভক্ত। এটি মোট তিন তলা বিশিষ্ট।

এই বিমানটি ২০ জন ক্রু মেম্বার সহ ১০০ জন মানুষ পরিবহনে সক্ষম।

এতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য বেড রুম, শাওয়ার রুম, পার্টি রুম এছাড়াও বেশ কয়েকটি মিটিং রুম।

রয়েছে দুটি রান্না রুম, যেখানে প্রায় ১০০ মানুষের জন্য খাবার তৈরির ব্যবস্থা করা সম্ভব।

পাওয়ারফুল ওয়াইফাই সিস্টেম, দুটি নিজস্ব রেডিও সেন্টার, কন্ট্রোল রুম, অত্যাধুনিক ৫০টিরো বেশি ক্যামেরা,

যার মাধ্যমে হাজার মাইল দূর থেকে লক্ষ্য বস্তুকে স্পষ্ট ভাবে দেখে নেয়া সম্ভব।

এছাড়াও রয়েছে ৮৫টি টেলিফোন, পর্যাপ্ত পরিমাণে আধুনিক কম্পিউটারের ব্যবস্থা।

রয়েছে পুরো একটি মেডিকেল টিম,

বিশ্বের প্রায় সকল ধরণের ওষুধ, ব্লাড ব্যাংক, দুটি মেডিকেল বেড  সহ চিকিৎসার যাবতীয় সকল উপকরণ।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে মোট চারটি ইঞ্জিন রয়েছে যার মাধ্যমে প্লেনটি ঘন্টায় প্রায় ৭০০ মাইল বেগে চলতে সক্ষম।

এর ভেতরে থাকা  তেল বাঙ্কারটি পূর্ণ করতে প্রায় ৫৩৬১১ গেলন তেলের প্রয়োজন হয়।

এয়ার ফোর্স ওয়ান শ্ত্রু পক্ষের মিসাইল এবং রাডারকে খুব সহজেই ফাঁকি দিতে সক্ষম।

পৃথিবীতে যদি কখনো কোন নিউক্লিয়ার হামলা হয় অথবা মহাকাশ থেকে যদি কোন বিশাল আকারের উল্কা পিন্ড আমাদের পৃথিবীতে আঘাত হানে,  এক্ষেত্রে এই প্লেনটিতে বসেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

যার জন্য একে ফ্লাইং হোয়াইট হাউসও বলা হয়।

এটি একটানা পৃথিবীর দুই ভাগের এক ভাগ ভ্রমণে সক্ষম। এছাড়াও উড়ন্ত অবস্থায় অন্য প্লেন থেকে তেল সরবরাহ করতে পারে বলে ধারণা করা হয় এর মাধ্যমে চাইলে এক সাথে গোটা পৃথিবী ভ্রমণ করা সম্ভব।

আরো পড়ুন:
প্রশান্ত মহাসাগরের রহস্যময় এক জায়গায় রকেটের কবরস্থান, পড়ে আছে আড়াইশ’র বেশি ধ্বংসাবশেষ 
ফিলিস্তিনি জমজ ভাইয়ের দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল – উড়োজাহাজ ক্যাফে

আপনি হয়তো জেনে অবাক হবেন, এয়ার ফোর্স ওয়ান যখন আকাশে উড়ে থাকে তখন এর জন্য আলাদা ভাবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম চালু রাখা হয়।

যে কারণে বেশিরভাগ সময়ে এয়ার ফোর্স ওয়ান যাত্রীবাহী বিমান বন্দর থেকে উড্ডয়ন কিংবা অবতরণ না করে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সেনা ঘাটি থেকে পরিচালিত হয়।

এক্ষেত্রে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে উক্ত ঘাটিতে পৌছানোর জন্য আলাদা ভাবে সর্বদা একটি হেলকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়। যার নাম হচ্ছে মেরিন ওয়ান।

বর্তমানে প্রতিবছর এই এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানের রক্ষণা-বেক্ষণের জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটির তথ্যের ভিত্তিতে শোনা যাচ্ছে তারা ইতিমধ্যে আরো অত্যাধুনিক এয়ার ফোর্স ওয়ান তৈরি করছেন।

২০২৪ নাগাদ নতুন এই এয়ার ফোর্স ওয়ানের সকল কাজ শেষ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে সাড়ে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ইউটিউব লিংক

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন