বর্ণীল সৌন্দর্য্যে রঙ্গিন ম্যাকাও পাখি

বর্ণীল সৌন্দর্য্যে রঙ্গিন ম্যাকাও পাখি
বর্ণীল সৌন্দর্য্যে রঙ্গিন ম্যাকাও পাখি

ম্যাকাও নামটি কমবেশি সবার কাছেই পরিচিত একটি নাম। পাখি জগতে সবচেয়ে বড় আকৃতির এই তোতা পাখিটি তার বর্ণীল পালক, বুদ্ধিমত্তা এবং কথা বলার জন্য ম্যাকাও পাখি বেশ খ্যাতনামা।

প্রজাতি:

বিলুপ্ত ও বিপন্ন মিলে প্রায় ১৯ প্রজাতির ম্যাকাও পাখির সন্ধান স্পষ্টভাবে পাওয়া গিয়েছে।

তবে পৃথিবীতে যত ধরণের ম্যাকাও পাখি রয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ৪ ধরনের ম্যাকাও।

এগুলি হচ্ছে-

১.  Scarlet macaw

২.  Blue and Gold macaw

৩. Hyacinth macaw

৪.  Green Winged macaw

আজ আমরা আপনাদের পরিচয় করাবো এই চার ধরনের ম্যাকাও পাখির সঙ্গে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ম্যাকাও পাখিগুলো সম্পর্কে-

প্রথমেই কথা বলা যাক Blue and Gold ম্যাকাও পাখি নিয়ে।

Blue and Gold macaw:-

  • বৈজ্ঞানিক নাম:

Blue and Gold ম্যাকাও পাখির বৈজ্ঞানিক নাম হলো Ara ararauna.

ব্রাজিলীয় টাপি ভাষা থেকে ম্যাকাও পাখির এই প্রজাতিটির নামকরণ হয়েছে আরা।

টাপি আরারা হচ্ছে তোতা এবং উনা হচ্ছে অন্ধকার বা কালো এবং পরবর্তীতে গাঢ় তোতা অথবা ম্যাকাও পাখি নামে পরিচিতি পেয়েছে।

  • আবাস্থল:

এদের বসবাস মূলত সেন্ট্রাল আমেরিকা,সাউথ আমেরিকার রেইন ফরেস্ট এবং আমাজন নদীতে।

  • আকার এবং ওজন:

এ প্রজাতির পাখি সাধারণত ৩০-৪০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকে। এবং এদের প্রাপ্তবয়স্ক হতে ৬-৭ বছর লাগে।

ব্লু এ্যান্ড গোল্ড ম্যাকাও পাখি দৈর্ঘ্যে ৭৬ থেকে ৮৬ সেমি. অর্থ্যাৎ ৩০ থেকে ৩৪ ইঞ্চি হয়ে থাকে।

এদের ওজন ৯০০-১৫০০ গ্রাম অর্থ্যাৎ ১.৯-৩.৩ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে।

  • বৈশিষ্ট্য:

এই ম্যাকাও পাখির রয়েছে নীল রঙের ডানা এবং লেজ। ঘন নীল চিবুক এবং নিচের দিকে সোনালী রঙ ও মাথার দিকে সবুজাভ রঙে সজ্জ্বিত এ পাখিটির নজরকাড়া সৌন্দর্য্য সকলকে মোহিত করে।

চোখ কালো রঙের। চোখের নিচের দিকে মুখায়াব সাদা রঙের। মুখের নিচে ছোট ছোট কালো রঙের পালক রয়েছে।

Scarlet macaw:-

Scarlet macaw পাখি হচ্ছে ম্যাকাও প্রজাতির বিভিন্ন পাখিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর পাখি। কারণ পাখিটির বিভিন্ন বাহারী রং পাখিটিকে অন্যান্য পাখির থেকে বেশ আকর্ষণীয় করে তুলে।

লাল-নীল-সবুজ-হলুদ বিভিন্ন রঙের সম্মিলন একে করে তুলেছে অনন্য।

  • প্রাপ্তিস্থান:

Scarlet macaw পাখির বিচরণ সাধারণত দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন বনে বেশি লক্ষ্য করা যায়। তবে ভেনিজুয়েলা, ব্রাজিল, বলিভিয়া, প্যারাগুয়ে, পেরু ইত্যাদি দেশেও এদের প্রাকৃতিক ভাবে উড়তে দেখা যায়।

  • আকার এবং ওজন:

Scarlet macaw এর আকার লম্বায় ৯০-৯৫ সে.মি. এবং এরা ওজনে ১.১-১.৮ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

  • খাদ্যাভ্যাস:

এরা সাধারণত তৃণভোজী হয়ে থাকে। ফল ও বাদাম জাতীয় শষ্য এদের খাবার। এছাড়াও সূর্যমুখী ফুলের বীজ, হেম্প বীজ ইত্যাদি বীচি জাতীয় খাবারও খেয়ে থাকে।

আরো পড়ুন:
বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ মাছ
মেরু অঞ্চলের সৌন্দর্য শ্বেত ভাল্লুক
হামিং বার্ড

বাসস্থান:

সাধারণত গাছের কোটর এদের বাসস্থান। এরা খুব শক্ত গাছও বেশ সহজেই ছিদ্র করে বাসা বানিয়ে থাকতে পারে।

  • উড়ার সক্ষমতা:

Scarlet macaw ঘন্টায় ৫৬ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার মিটার উপরেও এদের উড়তে দেখা যায়।

এমনকি কোস্টারিকায় প্রায় ১৫’শ মিটার উপরেও এদেরকে উড়তে দেখা গিয়েছে।

অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর ম্যাকাও পাখি
অপরূপ সৌন্দর্য্যে ভরপুর ম্যাকাও পাখি

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের চিড়িয়াখানায় ও সাফারি পার্কেও এদের এদের সংরক্ষণ করে রাখা হয়।

বাংলাদেশেও এর সন্ধান রয়েছে। এদেশে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক,গাজীপুর এই এদের দেখা মেলে।

Hyacinth macaw:-

  • বৈজ্ঞানিক নাম:

Hyacinth macaw এর বৈজ্ঞানিক নাম Anodorhynchus hyacinthinus.

  • আবাস্থল:

দক্ষিণ-পূর্ব আমেরিকায় এদের বিচরণ বেশি দেখা যায়।

  • আকার এবং ওজন:

Hyacinth macaw অন্য যেকোন ম্যাকাও পাখির তুলনায় প্রায় এক মিটার বেশি লম্বা। এর ওজন ৩.৫ কেজিও ছাড়িয়ে যায়।

এই প্রজাতির পাখিটি হচ্ছে ম্যাকাও প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে দামি পাখি। বাংলাদেশী টাকায় এক জোড়া পাখির মূল্য প্রায় ১৪ লক্ষ্য টাকা। শুনতে অবাক করা হলেও এটাই সত্যি। এর চেয়ে অনেক বেশি মূল্যেও Hyacinth macaw পাখি বিক্রি করা হয়।

Green Winged macaw:-

  • বৈজ্ঞানিক নাম:

Green Winged macaw এর বৈজ্ঞানিক নাম Ara chloropterus.

  • আকার এবং ওজন:

প্রাপ্তবয়স্ক একটি পাখির সম্পূর্ণ শরীরের দৈর্ঘ্য ৯০ থেকে ৯৫ সেমি. অর্থ্যাৎ ৩৫-৩৭ ইঞ্চি।

এটি ওজনে প্রায় Hyacinth macaw এর সমান হয়ে থাকে।

Green Winged macaw প্রজাতিটি দেখলে অনেকেই মনে করেন এটি ম্যাকাও। কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যায় এতে অনেক পার্থক্য রয়েছে।

দুটি পাখির রঙই লাল কিন্তু Scarlet macaw এর লেজের দিকে হলুদ রং বেশি।

এবং Green Winged macaw-এর নীল এবং সবুজ অংশ বেশি।

ম্যাকাও পাখি পাখিপ্রেমীদের কাছে বিরাট একটি শখের নাম। অনেকেই এই পাখিটি পালতে চান।

প্রাচ্যে ম্যাকাও পাখি এখন মানুষের আড্ডা, খাবারের সময় বা ঘুড়ে বেড়ানোর সময়ের খুব ভাল সঙ্গী হয়ে ওঠেছে।

তবে এর সৌন্দর্য্যের কারণে পাখিটির শিকার বেড়ে গেছে। যার ফলে ম্যাকাও পাখি এখন বিলুপ্ত প্রায়। পাখিটির অধিকাংশ প্রজাতিই ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

কাজেই যে কয়টি প্রজাতি এখনো বেঁচে আছে, তাদের রক্ষণাবেক্ষণে আমাদের সবারই এগিয়ে আসা উচিত। এবং শীঘ্রই অতিরক্ত পাখি শিকার বন্ধ করা অবশ্য-কর্তব্য ।

curious

 

শেয়ার করুন -

১ মন্তব্য

  1. অনেক সুন্দর পোষ্ট। ম্যাকাউ পাখি আসলেই অনেক সুন্দর এবং যে কেউ সহজে পছন্দ করে। আমাদের ওয়েবসাইটে ম্যাকাউ এর মজার তথ্য এবং কিভাবে তা বাড়ীতে পোষা যায় তার উপর আর্টিকেল লিখা আছে। যা পড়ে অনেক ভাল লাগবে।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন