ভয়ংকর মাংসাশী তরু – কলসী বা কলস উদ্ভিদ

কলস উদ্ভিদ ; ভয়ংকর মাংসাশী উদ্ভিদ
কলস উদ্ভিদ ; ভয়ংকর মাংসাশী উদ্ভিদ

পৃথিবীর সবথেকে বেশি ভয়ঙ্কর উদ্ভিদ হিসেবে কলস উদ্ভিদ কে চিহ্নিত করা হয়। এরা মারত্নক ধরনের মাংসাশী উদ্ভিদ। এর ইংরেজী নাম Pitcher plant.

বৈজ্ঞানিক নাম:

কলস উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Nepenthes

নামকরণ:

গঠন আকৃতিভেদে এদের নাম কলস উদ্ভিদ দেওয়া হয়েছে। দেখতে একদম কলসের মত বলে এই উদ্ভিদের নাম কলস উদ্ভিদ।

প্রজাতি:

পৃথিবীতে প্রায় ৮০ প্রজাতির কলস উদ্ভিদ পাওয়া যায়। এদের মধ্যে একটি দক্ষিণ আমেরিকান কলস উদ্ভিদ।  রয়েছে নর্থ আমেরিকার পিচার প্লান্ট।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রজাতির কলসি উদ্ভিদের পাতাগুলোর আকার, রঙ ও আকৃতিভেদে ভিন্নতর হয়ে থাকে।

সাধারণত কলস উদ্ভিদের দৈর্ঘ্য মাত্র ২ ইঞ্চি (৫ সে.মি.) থেকে আরম্ভ করে ২ ফুট (৬০ সে.মি.) পর্যন্ত হয়ে থাকে।

যেসব জায়গায় জন্মায়:

মালয়েশিয়া, মাদাগাস্কার, শ্রীলংকা এমনকি ভারতের মত উষ্ণমন্ডলীয় জলাভুমিতেও কলস উদ্ভিদের বিভিন্ন প্রজাতি জন্মায়।

সাধারণত গ্রীষ্মমন্ডলীয় এলাকার কলস উদ্ভিদের পাতা এবং উজ্বল রঙের কলসীর মত পাতা দুটিই রয়েছে। একটি আকর্ষী হতে ধীরে ধীরে সুতোর ন্যায় পাতাগুলো উৎপন্ন হয়।

আরো পড়ুন:
সূর্য শিশির বা সানডিউ
মগজখেকো অ্যামিবা

গঠন:

কলসি উদ্ভিদের বিশেষ ধরনের ফাঁপা পাতা রয়েছে, যা একটি জগ বা কলসীর মত পানি ধারণ করে রাখতে পারে।

কলসের মত দেখতে এই পাতাগুলোই শিকার ধরার ফাঁদ হিসেবে কাজ করে।

পাতা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং ক্রমশ ফুলে উঠে রঙিন একটি জগ বা কলসের মত আকৃতি লাভ করে।

পাতাটির উপরের দিকে ঢাকনার মত আরেকটি শাখাপত্র থাকে।

কোন কোন কলস উদ্ভিদের ক্ষেত্রে ঢাকনাটির কাজ হয় কলসির ধারে  শুধুমাত্র শোভাবর্ধক হিসেবে।

এগুলি সাধারণত শিকারে সাহায্য করে।

শিকার পদ্ধতি:

প্রাণী শিকার করার জন্য কলস উদ্ভিদ মাংসাশী উদ্ভিদ নামে পরিচিত। এদের মধ্যে ছোট আকারের কলস উদ্ভিদ গুলো মাছি, প্রজাপতি, পিঁপড়া ইত্যাদির মত ছোট ছোট  পোকামাকড় শিকার করে।

এবং বড় আকারের কলসি উদ্ভিদগুলো আকারে ছোট ব্যাঙ, ইঁদুর এর মত প্রাণী শিকার করে।

কিন্তু সব কলস উদ্ভিদের শিকার করার পদ্ধিতি একই রকম। এরা ফাঁদ পাতার মাধ্যমে কোন নাড়াচড়া ছাড়াই শিকার করে।

এই কলস উদ্ভিদের গঠন এমন যে এর কলস আকৃতির ভেতরের ফাঁপা অংশটি বন্দিশালার মত কাজ করে।

কলসের সঙ্গে আটকানো পাতটির আকৃতি একটি লম্বা নলের মত। নলের মাথায় থকে রঙচঙে একটি প্রবেশ পথ যেটি পোকামাকড়দের আকৃষ্ট করে।

পোকামাকড় অথবা প্রাণীরা ভেতরের দিকে হামাগুড়ি দিয়ে নেমে যায়।

নলের একেবারে শেষে তলদেশের অংশটি পেয়ালাকৃতির।

যেসকল কলসি উদ্ভিদ মাটির অতি সন্নিকটে জন্মায় তাদের কলসের ভিতরে বৃষ্টির পানি জমা থাকে।

অধিকাংশ কলস উদ্ভিদের ঢাকনার জন্য প্রবেশ পথ দিয়ে অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি ঢুকতে বাধাগ্রস্থ হয়।

ঢাকনাটি সবসময় উর্ধ্বমুখী অর্থাৎ খোলা থাকে।

curious24world লোভনীয় মধূ এবং রঙচঙে প্রবেশ পথে আকৃষ্ট মাছি
লোভনীয় মধূ এবং রঙচঙে প্রবেশ পথে আকৃষ্ট মাছি

কলসির উদ্ভিদের প্রবেশ মুখে এক প্রকারের মধু উৎপন্ন হয়। কলসির উজ্জ্বল রঙ আর সেই মধু পোকামাকড়দের দারুণ  আকৃষ্ট কররে।

যারফলে লোভে পরে পোকামাকড় ওড়ে কিংবা হামাগুড়ি দিয়ে কলসির ভিতরের অংশে প্রবেশ করে।

ভেতরের অংশেই কলস উদ্ভিদ মধু উৎপন্ন করে। আর এ কারণে পোকামাকড় আরো মধুর লোভে কলসির আরো ভিতরে ঢুকে যায়।

পোকাটি কলসির নলের ভিতরেই ঢোকার পরই বিপদে পড়ে যায়। নলের ভিতকার অংশটির আস্তর বরফের মত মসৃণ এবং পিচ্ছিল।

যার ফলে পোকাটি পিছলে গিয়ে নলের ভিতরে আরো তলানীর দিকে গড়িয়ে পড়ে যায়।

নলের তলদেশে থাকে অগণিত শুঙ্গ। এই শুঙ্গগুলি সবই কলসির নিচে জমে থাকা পানির দিকে ফেরানো থাকে।

তলদেশে এগুলো অতিক্রম করে পোকাটি একবার নিচে পরে গেলে তার পক্ষে আর ওপরে ওঠে আসা অসম্ভব।

একটা সময় পোকাটি তলদেশের পানিতে ডুবে যায়। এরপর কলস উদ্ভিদের পরিপাকে সহায়তাকারী উৎসেচকগুলো কলসির তলদেশে বেরিয়ে আসে।

পোকার শরীরের নরম অংশগুলো পরিপাক হয়ে তা কলস উদ্ভিদের দেহে শোষিত হয়। অর্থাৎ কলস উদ্ভিদ ওই পোকাটির প্রোটিন শোষণ করে।  এবং শক্ত অংশগুলো কলসির নিচে তলদেশে জমা হয়ে থাকে।

curious

শেয়ার করুন -

10 মন্তব্য

  1. I was excited to find this web site. I wanted to thank you for ones time due to this fantastic read!! I definitely really liked every part of it and I have you book marked to check out new stuff in your website. Aimee Teodoro Nimesh

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন