ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার এবং আমাদের করনিয়!

ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার এবং আমাদের করনিয়!
ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার এবং আমাদের করনিয়!

ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার এবং আমাদের করনিয়! গত বছরে ডেঙ্গু এক প্রকোপ প্রভাব ফেলে গেছে। ডেঙ্গু ব্যাপকহারে আমাদের উপর চেপে বসেছিল। তবে তার প্রভাব কিছুটা কমলে ও একবারে শেষ হয়নি এখনো। 

ডেঙ্গুর শুরু থেকে জনাবিশেক মূল্যবান জীবন কেড়ে নিয়েছে। এর মধ্যে দু’জন সম্ভাবনাময় চিকিৎসকও আছেন। একজন নার্সও মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন। আছে নিস্পাপ শিশুও। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং উদ্বেগজনক । তাই আমাদের সকলেরই উচিত ডেঙ্গুর প্রতিরোধ করা। তবে যেকোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করার শক্তি এবং অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। সেই শক্তি এবং অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করব। এবং আমরা অবশ্যই একে পরাভূত করব।

তবে ডেঙ্গু হলে যত তারাতাড়ি সম্ভব আমাদের চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। ডেঙ্গু নির্ণয় করার উপায় ও চিকিৎসাঃ জ্বর হলে CBC এবং Dengue NS1 Agপরীক্ষা করাতে হবে। জ্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় দিনে CBC এবং Dengue NS1 Ag পরীক্ষা করলেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রোগ ধরা পড়ে। তবে জ্বরের পঞ্চম দিন থেকে CBC, Dengue IgM Ab , SGPT পরীক্ষা করতে হবে। তবে ডেঙ্গু হলে আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক আপনার কোনো উপকারে আসবে না। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী চিকিৎসক আপনাকে উপদেশ দিবেন। রক্তের কাউন্ট স্বাভাবিক থাকলে বাড়িতে বিশ্রাম নিবেন।

জ্বরে মানুষের শরীর থেকে পানি উড়ে গিয়ে পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। তাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন লিভার, কিডনী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই প্রচুর তরল খাদ্য গ্রহণ করতে হবে। জ্বর কমাতে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল ওষুধ দেয়া যেতে পারে। তবে ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ার পর থেকে প্রতিদিন রক্তের CBC পরীক্ষা করতে হবে। যদি দেখা যায় অনুচক্রিকা স্থিতিশীল রয়েছে, রোগী মুখে পর্যাপ্ত খেতে পারছেন তাহলে দুশ্চিন্তার কিছু নেই । বাড়িতে বসেই চিকিৎসা নিতে পারবেন। যদি অনুচক্রিকা দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে এবং রোগীর রক্তচাপ কমতে থাকে, নাড়ির গতি বাড়তে থাকে, মুখে পর্যাপ্ত খেতে পারেন না তাহলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার এবং আমাদের করনিয়!
ডেঙ্গু রোগের প্রতিকার এবং আমাদের করনিয়!

আর যদি দেখা যায় অনুচক্রিকা ধীরগতিতে কমছে তাহলে বাড়িতে বসে প্রতিদিন CBC করতে হবে। অনুচক্রিকা একবার বাড়তে শুরু করলে আর ভয় নেই। ধীরে ধীরে রোগী ভাল হয়ে যাবেন। ডেঙ্গু ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়ঃ ডেঙ্গু ভাইরাস কেবলমাত্র এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। আমরা এর জীবনচক্র পরিষ্কার করে জানি। একটি ক্ষুদ্র গন্ডির ভেতর এর চলাফেরা। অতএব এর জীবনচক্র রুখে দেয়া বা ভেঙ্গে দেয়া মোটেই কঠিন না। এডিস মশা পরিষ্কার পানিতে জন্মলাভ এবং বংশবিস্তার করে। সাধারণত অভিজাত এলাকায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এদের পছন্দ।

তাই আমরা যদি পণ করি এবং জেদ ধরি যে, আমরা সবাই এডিস মশার বংশবিস্তারের ক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করব তাহলে এটা সম্ভব। সকলের সচেতন প্রয়াস এটি সম্ভব করবে। ম্যালেরিয়ার অ্যানোফিলিস মশার মত বিস্তীর্ণ এলাকায় এডিসের বিচরণ নয়। এমনকি সারা বছর ধরে এর প্রকোপও থাকে না। অর্থাৎ একটি ছোট গন্ডির ভেতর একটি ছোট সময় ধরে এডিসের বিচরণ। তাই শিক্ষিত মানুষের একটু সচেতনতাই পারে ডেঙ্গুকে নির্মূল করতে।

আসুন আমরা যার যার বাড়ির এডিসের প্রজনন ক্ষেত্রগুলোকে চিহ্নিত করে ধ্বংস করি। ছোট ছোট জলাশয় যেমন ফুলের টব, ফ্রিজের জমে থাকা পানি, বাড়ির আনাচে কানাচে জমে থাকা ভাঙ্গা বোতল, প্লাস্টিকের পাত্র, ডাবের খোসা, পুরান টায়ার , চিপসের ঠোঙা, পরিত্যক্ত কলস ইত্যাদি খুঁজে বের করি এবং যথাস্থানে ধ্বংস করি। এগুলো আমাদেকেই করতে হবে

আরো পড়ুন –

যৌন সংক্রমণরোগ ‘ক্ল্যামিডিয়া’ এবং এর প্রতিকার !
শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন