চা কিংবা কফি পানকরা শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর

চা কিংবা কফি পানকরা শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর
চা কিংবা কফি পানকরা শরীরের জন্য কতটা ক্ষতিকর

প্রতিদিন আমরা হয়তো সবাই কম করে হলেও একটি বার চায়ের কাপে চুমুক দেয়া বা কফি পান করে থাকি। তাই হয়তো আমাদের সকলেরই জেনে রাখা প্রয়োজন এই চা কিংবা কফি পান করা আমাদের দেহের জন্য আসলেই কি ক্ষতিকর না উপকার বয়ে আনছে?

আসার বাণী হচ্ছে সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শরীরের পক্ষে চা আর কফি দু’টোই খুব উপকারী। এগুল এতোটাই উপকারী যে, প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ চা কিংবা কফি পান করলে দূরে সরিয়ে রাখা যায় হার্টের অসুখ এবং স্ট্রোক এর মত মারাত্নক ব্যাধিকে।

যদিও কিছুদিন পূর্বে আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, চা কিংবা কফি পান করা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো নয়।

তবে গত বিশ বছর ধরে প্রায় সাতাশ হাজার বয়স্ক নারীর উপর গবেষণা চালিয়ে বিজ্ঞানীরা এখন তাদের মত পুরটাই পাল্টে নিয়েছেন।

এই গবেষণায় তারা প্রমাণ পেয়েছেন, নিয়মিত বেশ কয়েক কাপ কফি পান করলে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ’র আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। আর তাছারা চা পানের ফলেও দেহের অনেক ক্ষতি থেকে মুক্তি মেলে।

 আমাদের শরীরের ধমনীর ক্ষতি করে যে সমস্ত সেল, সেই সেলগুলোকে রক্ষা করে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। আর এ ক্ষেত্রে চা কফিতে রয়েছে ক্যাফেইন এবং  পলিফেনল। কার্ডিওভাসকুলার অসুখের ঝুঁকি কমাতে এ পলিফেনলেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

যদিও দ্যা রয়্যাল কলেজ অব জেনারেল প্র্যাকটিশনার্স’র ড. সারা জার্ভিস বলেছেন, অত্যধিক ব্যায়াম করা, অত্যধিক মাত্রায় চা কিংবা কফি পান করা শরীরের পক্ষে অবশ্যই ক্ষতিকর। তবে এগুলোর পরিমিত মাত্রা স্বাস্থ্যের উন্নতিই করে।

কেন আপনি চা পান করবেন? 

চা সাধারণত তিন রকমের হয়। ব্ল্যাক টি, গ্রিন টি এবং ওলং টি। চা পাতা রোস্ট করলে হয় ব্ল্যাক টি, ভাঁপানো হলে হয় গ্রিন টি, আর চায়ের পাতা পুরোপুরি ফার্মেন্টেড করা না হলে সেটা হয় ওলং টি। যার প্রত্যেকটিতেই রয়েছে নিজস্ব গুণাবলী।

আরো পড়ুন -
চা পাতা থেকে চা – যেভাবে তৈরি করা হয় চা
ডালগোনা কফি – যেভাবে একে তৈরি করবেন আপনি

গবেষকরা বলেছেন, চায়ে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এখন প্রশ্ন হলো- অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মূলত কী জিনিস?

 এর আসল নাম হচ্ছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পলিফেনল। যার কাজ হচ্ছে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।  আমরা রোজ যা খাই, সেই তালিকায় থাকে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এই যেমন- বিট, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, আলু, টমেটো, শসা ইত্যাদি সবজিতে প্রচুর পরিমাণে যৌগটি থাকে।

তবে সমস্যা হলো, সাধারণ অন্য শাক-সবজিতে এর পরিমাণ বেশ-কম থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীরে যতোটা প্রয়োজন, তা মেটে না এতে এই সকল সবজি দিয়ে। তবে চায়ে কিন্তু এটি অনেক বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

গবেষনায় বলা হয়েছে বাইশটি ফল খেলে যে পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট পাওয়া যায়, তার চেয়ে বেশি শরীরে ঢোকে প্রতিদিন দুই-তিন কাপ চা খেলে। চায়ে এ যৌগের পরিমাণ নয়শ সাতাশ মিউমোল ট্রোলেক্স। তাই অন্য ফল বা শাক-সবজির চেয়ে শরীরে চায়ের প্রয়োজন অনেক বেশি।

চায়ে রয়েছে অনেক ভিটামিন, দুটি খনিজ পদার্থ ও পনেরোটিরও বেশি অ্যামাইনো অ্যাসিড। রয়েছে থায়ামিন (ভিটামিন বি) কার্বহাইড্রেট, মেটাবলিজমের জন্য যা দরকার। এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন সি (অ্যাসকরবিক অ্যাসিড) যা শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

 আরো রয়েছে ভিটামিন বি, ফোলিক অ্যাসিড প্রভৃতি। আমাদের শরীরে দিনে দুই থেকে পাঁচ মিলিগ্রাম ম্যাঙ্গানিজের প্রয়োজন হয়। তাই ২৪ ঘন্টার মধ্যে পাঁচ থেকে ছয় কাপ চা দুধ ছাড়া পান করলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ম্যাঙ্গানিজের অর্ধেক বা পঞ্চাশ শতাংশ পূরণ হয়।

 প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ কাপ গ্রিন লিফের লিকার শরীরের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের তিন চতুর্থাংশ পূরণ করে দিতে সাহায্য করে। চায়ে সামান্য পরিমাণে জিঙ্কের অস্তিত্য বিদ্যমান। যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারি। অতএব হয়ে যাক প্রতিদিন চা কিংবা কফি।

 

curious

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন