কাঠবিড়ালি – প্রাণী জগৎ

কাঠবিড়ালি - প্রাণী জগৎ
কাঠবিড়ালি - প্রাণী জগৎ

রকাঠবিড়ালি  তিরিং বিরিং করে এগাছ থেকে ও গাছে ছুটে চলা একধরনে বিচিত্র প্রাণী।  গাছের গায়ে ঠোকর দিয়ে  এদের দিন বেশ ভালোই কেটে যায়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতায় ঠায় করে নিয়েছে স্বভাব চঞ্চল এ প্রাণীটি।

আমাদের curious24world এর প্রাণী জগৎ পৃষ্টায় আজকে আমরা আপনাদের জানাবো কাঠবিড়ালি জীবনচরিত্র সম্পর্কে।

কাঠবিড়ালীর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিন্যাসঃ-
জগৎ:এ্যানিমেলিয়া
পর্ব:কর্ডাটা
শ্রেণী: ম্যামমালিয়া
বর্গ: রোডেনটিয়া
উপবর্গ:স্কিউরোমোরফিয়া
পরিবার:স্কিউরিড

দেহের গঠনঃ-

কাঠবিড়ালীর শরীর লম্বাটে হয়, ঝোপালো লোমে ঢাকা লেজ আর বড় বড় চোখ দেখতে সুন্দর। সাধারণত তাদের লোম নরম আর মোলায়েম হয় যদিও প্রজাতিভেদে তা চিকন মোটা হয়। তাদের লোমের রং প্রজাতিভেদে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কাঠবিড়ালির প্রজাতি ভেদে এদের ওজন ও দৈর্ঘ বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।

এরা সাধারণত ছোট প্রাণী প্রায় ৭-১০ সেমি দৈর্ঘ্য এবং ওজনে ১০ গ্রাম হল আফ্রিকান পিগমি কাঠবিড়ালীর আর বড়র দিকে হল লাওশিয়ান বড় উড়্ড়ুক্কু কাঠবিড়ালি দৈর্ঘ্যে ১.০৮ মিটার এবং আলপাইন মারমট যার ওজন হয় ৫-৮ কেজি।

প্রজাতিঃ-

রোডেনশিয়া বর্গের স্কিউরিডে গোত্রের  স্তন্যপায়ী প্রজাতির অন্যতম হলো কাঠবিড়ালী এরা মাঝারি বা ছোট আকারের হয়ে থাকে।মূলত এই বর্গের স্কিয়ারাস এবং টামিয়াস্কিয়ারাস প্রজাতিকেই কাঠবিড়ালী বলা হয়।

  উড়ুক্কু কাঠবিড়ালী এবং চিপমঙ্ক, প্রেইরী কুকুর, উডচাক প্রভৃতি মেঠো প্রজাতির কাঠবিড়ালী স্কিউরিডে গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও পৃথিবী বেশ কিছু প্রজাতির কাঠবিড়ালি দেখা যায়। বাংলাদেশেই প্রায় আট প্রজাতি কাঠবিড়ালি বাস করে।

কাঠবিড়ালি দেখতে পাওয়া যায়ঃ-

অস্ট্রেলিয়া এবং এন্টার্কটিকা ছাড়া পৃথিবীর সবদেশেই  কাঠবিড়ালীর দেখা পাওয়া যায়। গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের কিছু কাঠবিড়ালীর শরীরে সাদা-কালো ডোরা থাকে। বাংলাদেশে প্রায় আট ধরনের কাঠবিড়ালি দেখা পাওয়া যায়। এদের মধ্যো তিন ডোরা ও পাঁচ ডোরা কাঠবিড়ালি বেশি দেখা যায়।

কাঠবিড়ালি - প্রাণী জগৎ
কাঠবিড়ালি –

কাঠবিড়ালির খাবারঃ-

গাছের বাকল,ফলমূল পাতা কাঠবিড়ালীর পছন্দের খাবার। এছাড়াও এরা ছোট পাখি,পাখির ডিম, পোকামাকড় খেয়ে থাকে।

কাঠবিড়ালির বাসস্থানঃ- 

  কাঠবিড়ালি প্রজাতি ভেদে গাছের সুউচ্চ শাখা থেকে মাটিতে সুরঙ্গ করেও থাকে।

কাঠবিড়ালির প্রজননঃ-

জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারিতে পুরুষ ও স্ত্রী কাঠবিড়ালির মধ্যে টানা ৬-৭ দিন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর স্ত্রী কাঠবিড়ালি  ৩৫-৪০ দিন গর্ভাবস্থা থাকার পর শিশু কাঠবিড়ালির জন্ম হয়। কাঠবিড়াল অভিভাবকত্বে তাড়াতাড়ি প্রজননে পরিপক্ক হয়।

প্রতি মহিলা ৩-৬টি বাচ্চার জন্ম দেয় প্রথম বছরে, প্রতিটি টায়রা পরে প্রথম ২-৫ বছর  ১০টি বাচ্চা উৎপাদন করতে পারে. নবজাতকের ত্বক মসৃণ এবং কেশহীন হয়।

লাল শরীরে বড় বড় মায়াবী চোখজোড়া অনেক সুন্দর।  জন্মের সময় এদের ওজন থাকে ৭- ৮.৫ গ্রাম। শিশু কাঠবিড়ালিটি ৮-৯ মাসের মধ্যে প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী হয়ে যায়।

বড় বড় দুটো মায়াকাড়া চোখ আর কৌতুকময় চালচলনে কাঠবিড়ালি সবাইকেই মুগ্ধ করে। কালের আবর্তনে অদ্ভুত সুন্দর এই প্রাণীটি বিলুপ্ত প্রায়।তবে সকলের যথাযথ প্রচেষ্টা আর সংরক্ষণীয় মনোভাবে কাঠবিড়ালি আবার ফিরে পেতে পারে তার প্রয়োজনীয় টিকে থাকার উপাদান গুলো।
curious

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন