মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ – যা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে

মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ - যা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে
মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ - যা ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে

মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ – বলা হয় আমাদের দেহের কার্যক্ষমতা কোন অংশেই সুপার কম্পিউয়ার থেকে কম নয়। প্রতি সেকেন্ডে আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ না না ধরনের কাজ করে থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন?  মানুষের  শরীরের মধ্যে অনেক অনেক অঙ্গ রয়েছে যা ছাড়াও মানুষ জীবিত থাকতে সক্ষম।

 আজ আমি কথা বলবো আমাদের মানব দেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতঙ্গ সম্পর্কে যা ছাড়াও মানুষ জীবিত থাকতে পারে।

আপেন্ডিক্স  –

চিকিৎসা বিজ্ঞান এখনো ঠিক ভাবে আবিস্কার করতে পারনি এই আপেনডিক্স এর প্রধান কাজ আসলে কি। অনেকেই বলে থাকেন এটি মানব দেহের বারতি একটি অঙ্গ। আবার অনেকেই বলেন এটি শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়া রোধের কার্জকারী ভূমিকা পালন করে থাকে।

ঠিক যেমনটা ইমিনোগ্রাবিলেন্স বেলায় হয়!

তবে বেশির ভাগ চিকিৎসকরা বিশ্বাস করেন মানব দেহের এই অঙ্গটি আসলে পূর্বের মানব জাত থেকে এসেছে। যার কোন প্রধান ভূমিকা আমাদের শরীরে নেই। অন্যদিকে এই ছোট অঙ্গটির রয়েছে বিশাল একটি সমস্যা আর সেটি হচ্ছে আপেন্ডিসাইটিস ।

মানুষের দেহে কোন কারন ছাড়াই এই ছোট অংশটির কারনে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে। যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে একে অপারেশনের মাধ্যমে কেটে ফেলা।

কিডনি –

আমরা হয়তো সকলেই জানি মানব দেহে দুইটি কিডনি থাকে। কিন্তু আপনি কি জানেন দুটি কিডনি থেকে একটিকে যদিও অপসারন করা হয় তবুও একজন মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব!

মূলত মানব দেহে কিডনির কাজ হচ্ছে শরীরের তরল বর্জ পদার্থ গুলকে ছ্যেকে ইউরিনের মাধ্যমে বের করে দেয়া। যে কারনে অনেকেই  কিডনিকে ছাকোনি হিসেবে ডেকে থাকেন। তবে এখানে একটি সমস্যাও রয়েছে।

কারো শরীরে যদিও একটি কিডনি কম কাজ করে,কিংবা একটি কিডনি একে বারেরি অকেজো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে তখন সেই মানুষের অন্য আরেকটি কিডনির উপরে অতিতিক্ত চাপ প্রয়োগ হয়।

যার ফলে দেখা যায় আস্তে আস্তে উক্ত ব্যাক্তির ভাল কিডনিটিও ড্যামেজ হয়ে যায়। উল্লেখ্য বর্তমানে চিকিৎসা বিজ্ঞান মানুষের দুটি কিডনি ছাড়াও বেঁচে থাকার পদ্ধতি আবিস্কার করেছে। যাকে বলা হয় ডায়ালাইসিস!

তবে এ ক্ষেত্রে সবচাইতে প্রধান যেই সমস্যাটি হচ্ছে সেটি হল, কেউ যদি প্রতিনিয়ত ডায়ালাইসিসের উপর নির্ভর হয় তাহলে তার শরীরে রক্তের অধিক ঘাটতি দেখা যায়। এমন কি সে আস্তে আস্তে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পরে।

টনসিলস –

মূলত এর প্রধান কাজ হচ্ছে বিভিন্ন ইনফেকশনের হাত থেকে দেহকে রক্ষা করা। তবে যাদের টনসিলসের ঝামেলা রয়েছে তাদের জন্য কিন্তু এই টনসিলস অনেক বড় একটি সমস্যা। কারন এই টনসিলস যখন তার আকারের চাইতে অধিক বড় হয়ে যায় সেই সময়ে মানুষ ঠিক ভাবে কোন কিছুই খেতে পারেনা।

এমন কি অনেক সময় এই টনলসিলস এতটাই বড় হয়ে যায়যে তার থেকে পরবর্তিতে গলায় টিউমার এবং সর্বশেষ ক্যান্সার হবারো সম্ভাবনা থেকে থাকে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময়ে চিকিৎসকরা একে কেটে ফেলার পরামর্শ দেন অথবা ওষুদের মাধ্যমে একে নিরাময় করার চেষ্টা করে থাকেন।

লিভার –

মানব দেহের অন্যতম এই গুরুত্বপূর্ন্য অঙ্গের কাজের গুনাগুন হয়তো বলেও শেষ করা যাবেনা।

মানব দেহে গড়ে দেড় থেকে সাড়ে তিন কেজি ওজনের এই অঙ্গটি প্রতিদিন ৫০০টির বেশি কাজ করে থাকে দেহের সুরক্ষার জন্য। যে কারনে এই লিভার ছাড়া হয়তো একজন মানুষ বেঁচে থাকতে পারবেনা ঠিক।

কিন্তু কেউ যদিও চায়, তাহলে সে তার লিভারের কিছু অংশ কেটে ফেলা কিংবা অন্যে মানুষকে তার খানিকটা অংশ খুব সহজেই ডোনেট করতে পারবে।

মূলত লিভারের মধ্যে পাওয়ার অফ রিজেনারেশনের কারনেই এমনটা সম্ভব। লিভারের স্পেশাল সেলস হ্যাপেটো সাইটসের কারনে কারো শরীরের লিভারের যদিও অর্ধেক টাও কেটে ফেলা হয়ে তাহলে তা পরবর্তিতে আবারো পুনরায় আস্তে আস্তে আগের মত আকৃতি ধারন করবে।

এমন কি কেউ যদিও অন্য কোন ব্যাক্তি কে তার অর্ধেকটা অথবা ৬৫ ভাগ লিভার দান করে দেয়, তাহলেও মাত্র এক বছরের মাথায় তার দেহের লিভারটি পূনরায় আগের মত ফিরে আসবে।

ব্লাডার –

সহজ ভাষায় যাকে আপনি মূতরো থলিও বলতে পারেন। মূলত এর কাজ হচ্ছে কিডনি থেকে জখন তরল বর্জ পদার্থ গুল বেড় হয় তখন তাকে সংরক্ষন করা এবং পরবর্তিতে তা দেহ থেকে নির্গত করা।

তবে অনেক সময়ে বিভিন্ন রোগের কারনে মানব দেহ থেকে এই ব্লাডারকে শরীয়ে ফেলতে হয়। এ ক্ষেত্রে তখন মানুষের শরীরে কৃত্তিম ভাবে একটি ব্যাগের ব্যাবস্থা করা হয়। যেখানে মানুষের কিডনি থেকে নির্গত হওয়া তরল পদার্থ গুল বের হয়ে জমা হয়ে থাকতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে কিন্তু অনেক বড় একটি সমস্যাও রয়েছে। কারন এই ব্যাবস্থায় মানুষ তার ইউরিন ত্যাগের সময় কিছুই অনুভব করতে পারেনা। অর্থাৎ এই সম্পুর্ন প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয় ক্যাথেটারের মাধ্যমে ।

ব্রেন –

মানব দেহে অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন এই অংশের কিছুটা ছাড়াও মানুষ কিন্তু দিব্বি বেঁচে থাকতে সক্ষম। নিত্যদিন আমরা যা কিছু ভেবে থাকি যা কিছু করি তার সবটুকুই পরিচালিত হয় এই ব্রেন থেকে।

এ সময়ে ব্রেনের কোন অংশে যখন কাজ করা বন্ধ হয়ে যায় তখন অটোমেটিকালি ব্রেনের অন্য স্থানের কাজ করা শুরু করে দেয়। অনেক সময়ে দেখা যায় কিছু মানুষের জন্মগত ভাবে ব্রেন সমস্যা অথবা জন্মের পরে ব্রেন সমস্যার সম্মুক্ষিন হয়।

এ ক্ষেত্রে সেই শিশুর ব্রেনের অনেকাংশ যথার্থ ভাবে কাজ করে না। এর জন চিকিৎসকরা অনেক সময় বাচ্চাদের ব্রেনের সেই অংশটুকু কে ফেলে দেয়। কারন এর ফলে পরবর্তিতে শিশুদের সেই ফেলে দেয়া অংশ   পূরন হবার অনেকটা সম্ভাবনা থেকে থাকে। যদিও বয়স্ক বযাক্তিদের জন্য এর হার একে বারেই  কম।

curious 1

 

আরো পড়ুন –

শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখতে হলে যা কিছু করা প্রয়োজন
শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন