ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর সাতটি বদঅভ্যাস

ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর সাতটি বদঅভ্যাস
ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর সাতটি বদঅভ্যাস

 ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর – মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশের একটি হলো আমাদের ব্রেইন বা মস্তিষ্ক। আমাদের প্রাত্যহিক কাজের প্রতিটি সিগন্যাল আসে মস্তিষ্ক থেকে। যা গঠিত হয়েছে অসংখ্য নিউরনের ইন্টার কানেকশন এর মাধ্যমে। শরীরের স্নায়ুতন্ত্র বাহির থেকে উদ্দীপনা বহন করে নিয়ে যায় আমাদের ব্রেইনে।

এসব উদ্দীপনা গ্রহণ করেই ব্রেইন আমাদের বলে দেয় কখন কি করতে হবে। তাই ব্রেইনের সুস্থতা নিশ্চিত করা আমাদের একান্ত কর্তব্য। কিছু কিছু অভ্যাস রয়েছে যেগুলো আমাদের ব্রেনের জন্য ক্ষতিকর । আসুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক এমন ৭টি অভ্যাস সম্পর্কে –

১. সকালের নাস্তা না করা: নাস্তা করতে ভুলে যাওয়া/মিস করাঃ সকালের নাশতা না করা আমাদের ব্রেইনের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। আমরা রাতে ঘুমানোর সময় আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ কাজ চলতে থাকে। তখন আমাদের শরীর তার মধ্যে জমা থাকা শক্তি ব্যবহার করতে থাকে। ফলে রক্তের গ্লুকোজ লেভেলও কমতে থাকে।

মানুষের ব্রেইনকে সঠিকভাবে কাজ করানোর জন্য রক্তের গ্লুকোজ লেভেল ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু রাতে দীর্ঘক্ষণ আমাদের শরীর কোন প্রকার গ্লুকোজ পায় না। তাই সকালের নাস্তা করলে আমাদের শরীর কার্বোহাইড্রেট লাভ করে, যা গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে রক্তের গ্লুকোজ লেভেল ঠিক রাখে। এর ফলে আমাদের ব্রেইন সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। তাই সকালের নাস্তা করা আমাদের শরীর ও ব্রেইনের জন্য খুবই জরুরী।

২. রাতে দেরিতে ঘুমানোঃ রাতে দেরি করে ঘুমানো আমাদের ব্রেইনের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। যেমনঃ আমাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়, ব্রেইনের সঠিক কার্যক্ষমতা সংকুচিত হয় ইত্যাদি। এছাড়াও, দেরিতে ঘুমালে ব্রেইন থেকে স্ট্রেস হরমোন রিলিজ হয়। যার কারণে আমরা স্ট্রেসড হয়ে পড়ি এবং আমাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে। তাই কখনোই কারো দেরিতে ঘুমানো ঠিক না।

৩. সকালে অধিক পরিমাণে অর্থাৎ অতিরিক্ত ঘুমানোঃ ব্রেইনকে সঠিকভাবে সচল রাখতে হলে তাকে তার প্রয়োজনীয় উপাদান সরবরাহ করতে হবে। তাহলেই ব্রেইন ঠিকভাবে কাজ করবে। কিন্তু যদি কেউ প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমায় তাহলে তার ব্রেইন দীর্ঘক্ষণ কোন প্রয়োজনীয় উপাদান পায় না। ফলে ব্রেইন সঠিকভাবে কাজ করতে পারেনা। ঘুম আমাদের ব্রেইনের সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যদি কেউ সঠিক নিয়মে পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমায়, তাহলে তার ব্রেইনের মধ্যে উৎপন্ন বজ্র উপাদানগুলো সে অপসারণ করতে পারে। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত ঘুমালে আমাদের মানসিক অবস্থার উপর এর খারাপ প্রভাব পড়ে এবং মেজাজও খারাপ থাকে। তাই আমাদের কারো প্রয়োজনের অতিরিক্ত ঘুমানো উচিত নয়।

৪. অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য গ্রহণঃ আমরা যে চিনি বা গ্লুকোজ জাতীয় খাবার খাই সেগুলো হজম করতে যে রাসায়নিক উপাদান কাজ করে তার নাম হলো ইনসুলিন। এই ইনসুলিনের উপাদান মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ব্রেইন। কিন্তু আমরা যদি অতিরিক্ত চিনি বা গ্লুকোজ গ্রহণ করে থাকি তাহলে আমাদের শরীরে বেশি পরিমানে ইনসুলিনের প্রয়োজন হবে।

যার জন্য ব্রেইনে হরমোনাল পরিবর্তন আসবে এবং ব্রেইন রাসায়নিক ভারসাম্য হারাবে। এতে করে দেখা দিতে পারে বিষন্নতা এবং ডায়াবেটিস এর ঝুঁকি। তাই অতিরিক্ত চিনি বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়া থেকে আমাদের সবার বিরত থাকা উচিত।

৫. খাওয়ার সময় টিভি বা কম্পিউটার দেখাঃ আমাদের মধ্যে অনেকেরই অভ্যাস আছে টিভি বা কম্পিউটারের মুভি/সিরিয়াল দেখতে দেখতে খাবার খাওয়া। এর ফলে আমাদের ব্রেইনের ক্ষতি হয়। এক্সপার্টরা বলেন, এভাবে টিভি বা কম্পিউটার দেখতে দেখতে খাবার খেলে আমাদের মধ্যে স্থূলতা এবং পীড়ন বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা দেখা দেয়। তাই যাদের মধ্যে এই অভ্যাসটি রয়েছে তাদের এটি পরিহার করা উচিত।

৬. ঘুমানোর সময় ক্যাপ/স্কার্ফ বা মোজা পরে ঘুমানোঃ অনেকেরই অভ্যাস রয়েছে ঘুমানোর সময় ক্যাপ/স্কার্ফ বা মোজা পরে ঘুমানোর। তাদের উচিত এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করা। কেননা ঘুমানোর সময় আমাদের শরীরের কোষগুলো বায়ুর সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত জরুরী। গবেষণা থেকে জানা যায়, যারা ঘুমানোর সময় ক্যাপ/স্কার্ফ বা মোজা পরে ঘুমায় তাদের ব্রেইনের উপর খারাপ প্রভাব পড়ে। তাই ঘুমানোর সময় এ বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।

৭. ইচ্ছাকৃতভাবে মূত্র/প্রস্রাব আটকে রাখা বা বন্ধ করে রাখাঃ আমাদের মূত্রথলি পূর্ণ হলে ব্রেইন থেকে সিগন্যাল আসে এবং আমাদের মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা জাগ্রত হয়। কিন্তু কেউ যদি মূত্রথলি পূর্ণ হওয়ার পরেও তা আটকে রাখে তাহলে তার ব্রেইনের নার্ভের ওপর চাপ পড়ে।

কারণ, মূত্র ত্যাগের ইচ্ছা জাগ্রত হওয়া সত্ত্বেও একে আটকে রাখা হচ্ছে। যার কারণে নার্ভের বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়। তাই সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি সেরে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এছাড়া, মদ বা অ্যালকোহল সেবন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড খাওয়া এবং ধুমপান করাও আমাদের মস্তিষ্কের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ, এসব গ্রহণের ফলে ব্রেইন কোনো পুষ্টি উপাদান পায় না।

বরং এসবের মধ্যে থাকা ক্ষতিকর উপাদানগুলো শরীরের পাশাপাশি ব্রেইনের উপর অসম্ভব রকমের খারাপ প্রভাব ফেলে। এতে করে আমাদের ব্রেইনের নিউরনগুলো আস্তে আস্তে মারা যেতে থাকে। তাই এসব জিনিসও অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে।

curious 1

আরো পড়ুন –

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাঁচটি সহজতর উপায়
শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন