শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখতে হলে যা কিছু করা প্রয়োজন

শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখতে হলে যা কিছু করা প্রয়োজন
শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখতে হলে যা কিছু করা প্রয়োজন

শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখা আমাদের জন্য খুবই প্রয়োজনিয় বিষয়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে ঘরে থাকতে থাকতে অনেকেই হয়তো বিরক্ত হয়ে গিয়েছেন। সেই সাথে শরীর ও মন কোন কিছুই ভালো যাচ্ছে না! এর কারণ হলো ঠিকমতো শারীরিকভাবে একটিভ বা সক্রিয় না থাকা।

অনেক দিন ধরে ঘরে থেকে কোন ধরনের শারীরিক অ্যাক্টিভিটি না থাকলে উচ্চ রক্তচাপ, ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগসহ নানা ঝুঁকিতে পড়ার আশংকা থাকে। তাই শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখতে হলে যা যা করতে হবে তা নিচে দেওয়া হলঃ

১. শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখা বলতে যা বোঝায়ঃ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, এই সময় যতোটা সম্ভব শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। আর এটা হতে পারে সারাক্ষণ বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়ানো।

এছাড়া, ৩-৫ মিনিটের ব্যায়াম- যেমনঃ হাঁটাহাঁটি বা হাল্কা শারীরিক কসরত করা, যার কারণে মাংসপেশিতে টান পড়ে ইত্যাদি এমন নানা ধরনের কর্মকাণ্ড করা যেতে পারে। এগুলো মানসিক দুশ্চিন্তা দূর করে এবং শরীরের রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করে মমাংসপেশিকে সক্রিয় রাখে।

২. বয়স অনুসারে যারা যতক্ষণ শরীর চর্চা করবেনঃ

কোন বয়সীদের জন্য দিনে কতটুকু করে শরীরচর্চা করা দরকার তার পরিষ্কার গাইডলাইনের কথা বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির মতে এক বছরের নিচের বয়সীদের জন্য দিনে বেশ কয়েকবার শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে শিশুকে মেঝেতে বসে খেলতে দেয়া যেতে পারে। চাইলে বড়রাও বাচ্চার সঙ্গে খেলতে পারেন। তাছাড়া, ৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে দিনে অন্তত ৩ঘন্টা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে। যাদের বয়স ৩-৪ বছরের মধ্যে তাদের দিনে অন্তত ১ঘন্টা শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকতে হবে।

এক্ষেত্রে শিশুদের এমন কিছু খেলায় অংশ নিতে বলা যেতে পারে যেগুলোতে শারীরিকভাবে যুক্ত হওয়া যায়- যেমনঃ বাড়ির মধ্যেই দৌড়ানো, শ্বাস-প্রশ্বাসের চর্চা করা, লাফানো, স্কিপিং করা ইত্যাদি। সেই সাথে ৫-১৭ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে দিনে অন্তত ১ ঘন্টা মাঝারি থেকে কঠোর শরীরচর্চা করা উচিত।

বিশেষ করে সেই ধরনের ব্যায়াম যেগুলো মাংসপেশি এবং হাড়ের গঠন কে শক্তিশালী করে। ১৮ বছর থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে সপ্তাহে অন্তত আড়াই ঘন্টা মাঝারি ধরনের শরীরচর্চা করা উচিত।

এক্ষেত্রে যতবার সম্ভব সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা, বাড়ির বিভিন্ন কাজকে শরীরচর্চার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা, ভার উত্তোলন বা স্কোয়াড, প্রেস আপ, সিটস আপ দেয়া যেতে পারে। এছাড়া, গানের তালে তালে নাচাটাও ভালো একটা ব্যায়াম হতে পারে।

৩. কোভিড-১৯ এর সময় যেভাবে নিরাপদে শরীরচর্চা করা যাবেঃ

কারো যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট থাকে তাহলে অবশ্যই তার জন্য শরীরচর্চা করা যাবে না। সেই সাথে তাকে বাসায় থেকে বিশ্রাম নিতে হবে এবং দরকার হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এছাড়া, উপরের সমস্যা গুলোর মতো যাদের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই তাদের যদি হাঁটা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো সুযোগ থাকে তাহলে অন্যদের সাথে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আর ঘর থেকে বের হওয়ার সময়, গন্তব্যে পৌঁছানোর পর এবং বাসায় ফিরে অবশ্যই সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে।

এ ছাড়া, কেউ যদি নিয়মিত শরীরচর্চা না করে থাকে তাহলে ধীরে ধীরে তাকে হালকা ব্যায়াম দিয়ে শুরু করতে হবে। তবে আরেকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেটি হচ্ছে শরীরের স্বাস্থ্যের অবস্থা এবং ফিটনেস অনুযায়ী নিজের জন্য সুবিধাজনক ব্যায়ামটি বেছে নিতে হবে।

এতে করে আহত হওয়া বা ব্যাথা পাওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। এ নিয়ে ফিটনেস ইনস্ট্রাক্টর তাহেরা ইসলাম সামিদা বলেন, আপনি যদি ওয়েট লস করতে চান তাহলে হাতে ৩০-৪০ মিনিট সময় রেখে প্রতিদিন ইফতারের আগে ওয়ার্কআউট করতে পারেন।

সে ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে ওয়ার্ক আউটের সময়টা যেন ১৫-২০ মিনিটের বেশি না হয়। সেই সাথে নিজেদের সুবিধার্থে এই ওয়ার্ক আউটে আপনারা ৩-৪ টি সেট করে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে প্রতিটি সেটে অবশ্যই যেন কুলডাউন থাকে।

৪. ঘরে বসে যেভাবে শরীরকে সক্রিয় এবং চাঙ্গা রাখা যায়ঃ

প্রথমেই যেটি করতে হবে সেটি হলো, বসে থাকা কমাতে হবে। ঘরে বসে কাজ করা, পড়াশোনা, টিভি দেখা, মোবাইলে সময় কাটানো বা ভিডিও গেমস খেলা ইত্যাদি করতে গিয়ে অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকা যাবে না।

অন্তত ২০-৩০ মিনিট পরপর ৩-৫ মিনিটের জন্য উঠে দাঁড়াতে হবে, একটু হাঁটাহাঁটি করতে হবে, স্ট্রেস বা মাংসপেশিতে টান লাগে এমন হালকা ব্যায়াম করতে হবে। তাছাড়া, পুরো বাড়ি হেঁটে বেড়ানোর সাথে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা কিংবা একটু ছাদে বা বাগানে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করে আসা যেতে পারে।

শুধু এগুলো করেও একজন মানুষ তার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে। দ্বিতীয়ত যা করতে হবে তা হলো পরিকল্পনা করতে হবে অর্থাৎ প্রতিদিন কোন সময়টাতে কি ধরনের ব্যায়াম করতে হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। সেই সাথে নিজে নিজে ব্যায়াম অথবা অনলাইনের মাধ্যমেও ব্যায়াম করা যেতে পারে।

এছাড়া, অনলাইনে বন্ধুদের সাথে মিলে কখন ব্যায়াম করবেন সেটাও ঠিক করে একসাথে ব্যায়াম করতে পারেন। তৃতীয় বিষয়টি হলো বাসায় থাকার সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে মিলে একসাথে শরীরচর্চা করা যেতে পারে। এমনকি শিশুদের সাথে শারীরিক ভাবে যুক্ত হতে হয় এমন খেলায়ও অংশ নেয়া যেতে পারে।

সেই সাথে নিজের উন্নতির একটি তালিকা তৈরি করে সপ্তাহ শেষে সেটি খেয়াল করতে হবে যে, এটি আসলেই আপনার জন্য জরুরী কিনা। যদি জরুরী হয়ে থাকে তাহলে সেটি অনুসরণ করুন।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল – 

আরো পড়ুন –

সৌন্দর্যচর্চায় বিট এর ব্যবহারিক গুনাবলি
শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন