খেজুরের পুষ্টিগুণ ও সকল উপকারীতা –

খেজুরের পুষ্টিগুণ ও সকল উপকারীতা -
খেজুরের পুষ্টিগুণ ও সকল উপকারীতা -

খেজুর আমাদের সকলেরই খুব পরিচিত একটি ফল। এই খেজুরের পুষ্টিগুণ ও উপকারীতাও রয়েছে অনেক। সৌদি আরব, ইরাক, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মূলত এ ফল উৎপাদিত হয়ে থাকে। মুসলিম প্রধান দেশ গুলোতে এই ফলের চাহিদা এবং কদর খুব বেশি। কারণ, এটি মুসলিমদের প্রিয় খাবার গুলোর মধ্যে একটি।

রমজান মাসে সারা দিন রোজা রেখে ইফতারের সময় কম বেশি সবাই এই খেজুর খেয়ে থাকে। আর সারাদিন রোজা রাখার পর শরীরের কিছুটা পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে এই ফল। নিচে এসব খেজুরের পুষ্টিগুণ ও উপকারীতা গুলোর বিস্তারিত দেওয়া হলোঃ

খেজুরের পুষ্টিগুণ  –  খেজুর একটি সুস্বাদু ও মিষ্টি জাতীয় ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-কে সহ প্রচুর খাদ্য গুণ। এছাড়াও, এতে রয়েছে খনিজ পদার্থ, পানি, আমিষ, শর্করা এবং সামান্য পরিমাণ ফলিক অ্যাসিড, ম্যাঙ্গানিজ, সালফার ও প্রোটিন।

যা আমাদের প্রতিদিনের ক্যালরির চাহিদা পূরনের পাশাপাশি শরীরের বিভিন্ন দিকের ক্ষতি পূরণ করে থাকে। এ জন্য আমাদের উচিৎ নিয়মিত একটি করে হলেও খেজুর খাওয়া। আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক খেজুরের ঔষধিগুণ সম্পর্কে। খেজুরের

ঔষধি গুনঃ – খেজুর বিভিন্ন সংক্রামক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।যেমনঃ ১. যকৃতের সংক্রমণ, ২. সর্দি, ৩. কাশি, ৪. জ্বর, ৫. বদহজম, ৬. উচ্চরক্তচাপ, ৭. রক্তশূন্যতা সহ ইত্যাদি সমস্যায় খেজুর ঔষধি ভূমিকা পালন করে থাকে।

এছাড়াও, খেজুরের রয়েছে অনেক উপকারী গুন। যা নিচে দেওয়া হলোঃ খেজুরের উপকারিতাঃ

১. খেজুর শরীরে সোডিয়াম এবং পটাশিয়ামের সমতা রক্ষা করে।

২. খেজুর দেহের পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন দূর করতে সাহায্য করে।

৩. খেজুরে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়কে মজবুত করে।

৪. খেজুর হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে তাই হৃদরোগীদের জন্যও এটি বেশ উপকারী একটি ফল।

৫. খেজুর আমাদের দেহের যকৃৎ ও পাকস্থলীর শক্তি বর্ধক হিসেবে কাজ করে।

৬. খেজুরে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান সেরোটোনিন নামক হরমোন উৎপাদন করতে সহায়তা করে। যা আমাদের স্নায়ুবিক শক্তি বৃদ্ধি করে আমাদেরকে মানসিক প্রফুল্লতা দেয়। আর এতে করে আমাদের মন ভাল থাকে।

৭. খেজুরে থাকা ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। তবে এ ক্ষেত্রে উপযুক্ত ফলাফল পাওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে খেজুর খাওয়ার সাথে প্রচুর পরিমানে পানি পান করতে হবে।

৮. খেজুর দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং খাদ্যের অরুচি দূর করে রুচি বাড়াতে সহায়তা করে। ৯. খেজুরে থাকা ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে সহায়তা করে থাকে।

১০. খেজুরে থাকা পুষ্টি উপাদান ফুসফুসের সুরক্ষার পাশাপাশি মুখগহ্বরের ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।

১১. খেজুরে থাকা ডায়েটরি ফাইবার দেহকে কোলেস্টরেল এর সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়।

১২. খেজুরে আছে স্যলুবল ও ইনস্যলুবল ফাইবার এবং বিভিন্ন অ্যামিনো এসিড যা খাবার হজমে সাহায্য করে থাকে। তাই বদ হজম থেকে বাঁচতে খেজুর খুবই উপকারী।

১৩. খেজুর তারুণ্য এবং যৌবন ধরে রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

১৪. খেজুরে থাকা আয়রন শরীরে রক্ত উৎপাদন করে এবং দেহের রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে।

১৫. খেজুরের মধ্যে খাদ্যশক্তি থাকায় এটি দেহের দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে থাকে।

এছাড়া, এতে শতকরা ৮০ ভাগই চিনি থাকায় শুকনো খেজুর বা খোরমাকে বলা হয় মরুভূমির গ্লুকোজ। যা রমজান মাসে দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকার কারণে আমাদের দেহে সৃষ্ট গ্লুকোজের ঘাটতি পূরন করতে সাহায্য করে।

সেই সাথে যেহেতু একটি ফলের মধ্যেই এতো উপকারীতা বিদ্যমান। তাই আমাদের উচিৎ প্রতিদিনের ইফতারে অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি অল্প করে হলেও খেজুর খাওয়া।

আমাদের ইউটুব চ্যানেল – 

আরো পড়ুন –

তুলসী পাতার জাদুকরী গুণাগুণ ও এর উপকারিতা
শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন