কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের আসল রহস্য

কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের আসল রহস্য
কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের আসল রহস্য

কোভিড-১৯ বা করোনা থেকে ‘কো’ , ভাইরাস থেকে ‘ভি’, এবং ‘ডিজিজ’ বা ‘রোগ’ থেকে ‘ডি’ নিয়ে এর সংক্ষিপ্ত নামকরণ করা হয় “কোভিড”। এর আগে, এই রোগকে ২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস বা ২০১৯-এনসিওভি বলা হতো।

মাস খানেক আগে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস অ্যাঢানম গেব্রেইসাস সাংবাদিকদের বলেন, এখন রোগটির একটি নতুন নাম রয়েছে আমাদের কাছে। সেটি হলো “কোভিড-১৯”। এটি ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

নভেল করোনাভাইরাস (সিওভি) হলো করোনাভাইরাসের এক নতুন প্রজাতি। নতুন আবিষ্কৃত এই ভাইরাসের সংস্পর্শে মানুষের দেহে যে ছোঁয়াচে রোগ সৃষ্টি হয়, সেই রোগের নাম (COVID-19) কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাস ডিজিস (coronavirus disease)।

২০১৯-এর ডিসেম্বর মাসে চীনদেশের উহান প্রদেশে সর্বপ্রথম এই রোগের প্রাদুর্ভাব হয়। ভাইরাস সংক্রমণ সব বয়সের মানুষের মধ্যে হলেও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং যারা বয়স্ক, তাদের এই রোগে মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এছাড়াও, কোনো ভাইরাসকে অপরিবর্তনশীল বস্তু বলে ভাবলে চলবে না। যেকোনো আর.এন.এ (RNA) ভাইরাসের মতো সার্স কভ-২ ও খুব সহজেই তার গঠন বদলাতে পারে। অর্থাৎ, ভাইরাস যখন বংশ বিস্তার করে তখন যেমন খুশি নিজেদের জিনের সজ্জা বদলে ফেলতে পারে।

এই জিনের পরিবর্তিত সজ্জা নিয়েই ভাইরাস এক মানব দেহ থেকে অন্য মানব দেহে সংক্রামিত হয়। এখন পর্যন্ত, করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রেও প্রায় বহুবার মিউটেশান লক্ষ্য করা গেছে। বার বার মিউটেশানের ফলে ভাইরাস খুব সহজেই নতুন নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিয়ে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

এই পর্যন্ত ৩৮০ বার নিজের জিনেটিক গঠন বদলে পৃথিবীর বিজ্ঞানীদের ঘুম হারাম করে দিয়েছে নভেল করোনা ভাইরাস। কিন্তু এই মিউটেশানের প্রভাবে কোভিড-১৯ যুক্ত রোগীর উপসর্গে কি ধরনের পরিবর্তন হচ্ছে তা এখনি বলা সম্ভব নয়।

তাঁর জন্য প্রচুর নমুনা সংগ্রহ করে ভাইরাসের জিনোম সিকয়েন্সিং করে পরিবর্তন লক্ষ্য করতে হবে। সর্বশেষ কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে সারাবিশ্বে শুরু হয়েছে মৃত্যুর মিছিল। সাধারণ করোনার তুলনায় কোভিড-১৯ অনেক বেশি বিষাক্ত।

চীনের উহান প্রদেশের বায়োসেফটি ল্যাবোরেটরি লেভেল ফোর (BSL 4) হচ্ছে কোভিড-১৯ নামক ‘জেনেটিক্যালি মডিফায়েড’ করোনাভাইরাসের জন্মদাতা। আর এই কথা আগে থেকেই জানত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)।

আন্তর্জাতিক একটি সাংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন আইনজীবী, রাসায়নিক মারণাস্ত্র বিরোধী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ড. ফ্রান্সিস বয়েল।

ড. ফ্রান্সিস বয়েল হলেন ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়েস কলেজের আইনের অধ্যাপক। রাসায়নিক অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ সংগঠনেরও অন্যতম মাথা তিনি। তার উদ্যোগেই ১৯৮৯ সালে ‘বায়োলজিক্যাল ওয়েপনস অ্যান্টি-টেররিজম অ্যাক্ট’ বিল পাস হয়। তবে এর আগেও এ বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন ড. ফ্রান্সিস।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ও মাইক্রোবায়োলজিস্টদের দাবির সমর্থন জানিয়েই ফ্রান্সিস বলেন, উহানের ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির বায়োসেফটি লেভেল ফোর (BSL 4) ল্যাবরেটরিতে অতি গোপনে রাসায়নিক মারণাস্ত্র বানানোর প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকেই ছড়িয়েছে এই ভাইরাসের সংক্রমণ।

এছাড়াও সি ফুড মার্কেটের ব্যাপারটা নেহাতই চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টা যা আগে থেকেই জানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। গোটা বিষয়টাকে নাকি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। আমি বলছি না যে চীন এটি ইচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়েছে।

তবে তাদের ল্যাবে ঘটে যাওয়া কোন দুঘর্টনার ফলে ভাইরাসটির বৈশ্বিক মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার ব্যাপারটিও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছেনা বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ড. ফ্রান্সিস জানান, উহানের ঐ বায়োসেফটি লেভেল ফোর ল্যাবোরেটরিকে সুপার ল্যাবরেটরির তকমা দিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সেখানে বলা হয়েছিল, ঐ ল্যাবে ভাইরাস নিয়ে কাজ হলেও তা অনেক বেশি সুরক্ষিত ও নিরাপদ। ল্যাবরেটরির জন্যই রয়েছে আলাদা উইং যার বাইরের পরিবেশের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, সার্স ও ইবোলা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠার পরে অভিযোগের আঙুল ওঠে ঐ গবেষণাগারের দিকেই। রোগ প্রতিরোধ নয়, বরং প্রাণঘাতী জৈব অস্ত্র বানাতেই মত্ত সেখানকার গবেষকরা যার পরিণতি হাজার হাজার মৃত্যু।

নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড১৯) জিনগত বদল ঘটানো হয়েছে এবং উহানের ঐ ল্যাবোরেটরি থেকেই যে ভাইরাস ছড়িয়েছে সেটাও জানেন ডব্লিউএইচও (WHO) এর অনেক গবেষকই।

এ থেকে বোঝা যায় যে, এই কোভিড-১৯ বা করোনাভাইরাসের আরো অনেক রহস্যময় ঘটনা জানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) যা এখনো পুরোপুরি ভাবে আমাদের সামনে আসেনি।

আরো পড়ুন –

করোনাভাইরাসের প্রাথমিক ছয়টি লক্ষন এবং করনিয়
শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন