পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য – যা আপনার যানানেই

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই
পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য –  প্রকৃতি অদ্ভুদ এক জিনিস, যার সম্পর্কে অগ্রিম বলে দেয়া কঠিন। আমরা আগে থেকে জানতে পারিনা, আমাদের সামনে  কি অপেক্ষা করছে।

২১ বিংশ শতাব্দীতে আমরা মানুষরা অনেক টেকনোলজি আবিষ্কার করেছি। কিন্তু আজও আমরা কিছু সাধারণ বিষয় বুঝতে পারিনা। যেমন জীবন ধ্বংসকারী বৃষ্টি বাদল, সাদা রংধনু, তিন সূর্য অথবা এমন এক ঘটনা যার ফলে একটি পুরো আইল্যান্ডই অদৃশ্য হয়ে
যায়। তাই আজ আপনাদের সাথে  ঠিক এমনি পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য সম্পর্কে কথা বলবো।

টু ওশানঃ
আপনারা জানেন কি? প্রত্যেক সমুদ্র একে অপরের সাথে মিশে আছে। কিন্তু কোনটি কোথায় মিলিত হয়েছে তা অসুন্ধান করা অনেক কঠিন। আল্টান্টিক আর প্রশান্ত মহাসাগর যেখানে মিলিত হইয়েছে সেখানের ৮০০ কিলোমিটারের দীর্ঘ বর্ডারকে আপনি
খালি চোখে দেখতে পাবেন।

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই
চিত্র – সমুদ্রে ভিন্ন রঙের পানি !

যদি আপনি মনে করে থাকেন এ দুই সমুদ্রের পানি সহজেই মিলিত হয়ে যাবে। তাহলে আপনি ভুল ভাবছেন। এ সমুদ্রের বর্ডারকে আপনি শুধুই নক্সাতেই দেখতে পাবেন না, বরং আপনি খালি চোখেও এর বাস্তব অস্তিত্ব দেখতে পাবেন। আপনি নিশ্চয় চিন্তা করছেন, এ দুই সমুদ্রের পানি একে অপরের সাথে
মিশে যায় না কেন? এর একমাত্র সহজ উত্তর হল এর ডেনসিটি আর সালিনিটি। সাধারণ ভাষায় যাকে ঘনত্ব আর লবনাক্ততা বলা হয়। এর কারণে একটি সারফেস টেনশন এ দুই সমুদ্রের মাঝে তৈরি হয়। ফলে দুই সমুদ্রের পানি মিক্স হতে পারেনা।

সাধারণ চোখে দেখতে পাওয়া এ ফেনোমেননকে বিজ্ঞানীরা হ্যালোক্লাইন নাম দিয়েছেন। যদি এ দুই সমুদ্রের পানিকে একটি গ্লাসেও নেন তাহলেও ফলাফল একি আসবে। দুই সমুদ্রের মাঝের এ লাইন দেখতে ভার্টিকেল মনে হলেও আসলে এটা হরিজন্টাল। এটা ছাড়াও আরও কিছু নদীর পানি আপনি এমনটা দেখতে পাবেন।

থ্রি সানসঃ
বিভিন্ন দেশের কিছু পন্ডিত প্রায়শই তাদের চারুকলাই তিন সূর্যের উল্ল্যেখ করেছেন। তবে প্রত্যেকে একে মিথ মনে করে। কিন্তু বিশ্বাস করুন যে এ ঘটনাটি পৃথিবীতে আসলে অনেকবার ঘটেছে। এ প্রক্রিয়া হালো নামে পরিচিত।  এটাকে দেখুন কিভাবে সূর্যের চারপাশে রিং তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলেছেনে এরকমটি দেখা যায়।

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই
পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য / চিত্রে এক সাথে তিনটি সূর্য

অত্যাধিক ঠান্ডা অঞ্চলে। যদি সেখানের পরিবেশ অধিক ঠান্ডা হয় তবেই আমরা এরকমটি দেখতে পাব। তীব্র ঠান্ডায় যখন বায়ুমন্ডলে আদ্রতা খুবই কম থাকে, তখন আমরা সূর্যকে তিনটি ভাগে দেখতে পাই। অনেক সময় এটা চাদের সাথেও ঘটে। কিন্তু এটা কেন হয়? এর উত্তর হচ্ছে , যখন বরফের ছোট ছোট
টুকরা বায়ুমন্ডলের উচ্চতায় পৌছে যায়, তখন সেখানের সূর্যের আলো এভাবে প্রতিফলিত হয়। আর আমদের এটার দেখা মিলে। পুরানো দিনের মানুষ এরকম ঘটনাকে অশুভ মনে করত। কিন্তু আজ আমারা এটার পিছনের কারণ জানতে
পেরেছি।

মর্নিং গ্লোরিঃ
এ আশ্চর্যজনক মেঘ পুরো পৃথিবীতে শুধু একটি জায়গায় দেখা যায়। আর তা হল অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূলে। আবার তাও গ্রীষ্মের শুরুর দিকে। এ মেঘগুলিকে আর্কস ক্লাউড বলা হয়। যা প্রতি ঘন্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে থাকে। আপনি হয়ত বিশ্বাসই করবেন না, মানুষ এ মেঘের উপর দিয়ে হ্যান্ড গ্লাইডার দিয়ে ভেসে বেড়ায়।

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই
পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য / চিত্রে ভিন্ন ধরনের মর্নিং গ্লোরি মেঘ

 আর এটা এজন্য যে তারা যেন মেঘকে কাছ থেকে দেখতে পারে। কিন্তু আজ পর্যন্ত। এ মেঘের উপর গবেষনা করা হয়নি তার গঠনের কারণে। এটার কাছে যাওয়া বিপদমুক্ত নয়। কারণ এ মেঘ যেকোন সময় তুফানে রূপ নিতে পারে। আর সবচেয়ে
যে বড় জিনিসটি বিজ্ঞানীদের বুঝে আসেনি, তাহল এ মেঘ শুধুই কেন অস্ট্রেলিয়ার নির্দিষ্ট উপকূলে তৈরি হয়। অন্য কোথাও কেন নয়।

হোয়াট রেইনবোঃ
অনেক স্কুলের শ্ররু থেকেই বাচ্চাদের রংধনু সম্পর্কে জানানো হয়। হয়ত আপনিও এটাকে বেশ কয়েকবার দেখেছেন। অনেক সময় তো দুই দুইটা রংধনু একসাথে দেখতে পাওয়া যায়।

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই
পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য / চিত্রে সাদা রংধনু

যদিও এটা বিশেষ কোন কিছু না। সাধারণত বৃষ্টির পর রংধনু দেখতে পাওয়া যায়। আপনারা জানেন কি পৃথিবীতে অন্য রকমের আরও একটি রংধনু দেখতে পাওয়া যায়। এটাকে সাধারণত ফগ বো নামে ডাকা হয়। আর এটাকে এমন এক অঞ্চলে দেখতে পাওয়া যায় যেখানের বাতাস কুয়াশা দিয়ে ঢাকা থাকে। যেমন
আর্কটিক মহাসাগরের আশে পাশে।

এটাকে অনেক বার দেখা গেছে। এ রংধনু ঠিক ঐ রকমই হয়ে থাকে যে রকমটি আমরা অন্য রংধনুকে দেখতে পায়। শুধু এটাতে কুয়াশার একটা স্তর তৈরি হয়। যার কারণে আমরা সাত রঙ দেখতে পায়না। হয়ত আপনি বিশ্বাসই করবেন না, হোয়াইট রেইনবো রাতের বেলাতেও দেখা যায়। আর রাতের বেলার এ রংধনুকে মুনবো নামে ডাকা হয়।

আন্ডার ওয়াটার সার্কেলসঃ
1995 সালে, ডাইভের একটি দল জাপানের আমামি ওশীমা দ্বীপের নিকটে সমুদ্রের মধ্যে অদ্ভুত কিছু দেখতে পেয়েছিল। আশ্চর্যজনক এ চিত্রকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন
এটাকে হাত দিয়ে বানানো হয়েছে। মানুষের চোখে অদ্ভুদ কিছু ধরা পড়েছে, আর তারা এটাকে এমনি এমনি ছেড়ে দিবে।

পৃথিবীর অদ্ভুত কিছু রহস্য - যা আপনার যানানেই
সমুদ্রের নিচের গোল বিত্ত

তা হতেই পারেনা তখনই তার উপর গবেষণা
শুরু হয়েছিল। যখন গবেষণা চলছিল তখনই মানুষজন এটাকে এলিয়েনের সাথ জড়িয়ে দিচ্ছিল। কিন্তু ১৮ বছর গবেষণার পর জানা গেল যে, ট্যারাডন ফ্যামিলির এক মাছ এ রমকমটি বানিয়ে থাকে। এ মাছ লম্বায় ১২ সেন্টিমিটারের বেশী হয় না।
কিন্তু তারা যে আর্টি বানিয়ে থাকে তার ডায়ামিটার প্রায় ২ মিটার লম্বা হয়। এখন প্রশ্ন হল, তারা এমনটি করে কেন? এটা কি শুধুই আনন্দের জন্য করে? তার উত্তর হল না।

এর পিছনে শুধু একটি কারণই আছে। আর তা হল, পুরুষ মাছ স্ত্রী মাছের ডিম দেয়ার জন্য এ রকম জায়গা বানিয়ে থাকে। যদি স্ত্রী মাছের এ আর্ট পছন্দ হয় তাহলে সে এখানে ডিম পাড়ে। যার পরে পুরুষ মাছ সেগুলোকে ফার্টিলাইজ করে থাকে। বিজ্ঞানীরা শুধু এটা বুঝতে পারল না যে, সব আর্ট তো প্রায় একই হয়ে থাকে।
তাহলে কিসের উপর ভিত্তি করে মা মাছ এসব আর্টের উপর ডিম দিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন –

বিশ্বের সবচাইতে জ্যেষ্ট মানুষ- যারা এখনো বেচে আছেন!

 

 

এ সম্পর্কিত ভিডিও

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন