গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কি হবে

গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কি হবে
গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কি হবে

গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কি হবে –  পৃথিবীতে এমন একটি সময় ছিল যখন ডাইনোসর ছিল। তারপর পৃথিবীতে একটি এস্ট্রয়েড আছড়ে পড়ে। যার ফলে পৃথিবী থেকে ডাইনোসরর অস্তিত্ব বিনাশ হয়ে যায়।

 আপনি কি চিন্তা করতে পারেন যদি এখন গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করে তাহলে কি হবে? পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭০০ কোটিরও বেশী। আর এ পৃথিবীতে ৭ বিলিয়ন মানুষ প্রায় ৫৫০ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার জায়গা দখল করে রেখেছে। যদি কোন এস্ট্রয়েডের সাথে এত বিশাল জনসংখ্যার সংঘর্ষ হয় তাহলে তার ফলাফল কি হবে? আজ যদি এমন কিছু ঘটে তাহলে তার ফলাফল কি হবে? আসুন জেনে নিই।

কোন এস্ট্রয়েড কি পরিমাণ ক্ষতি করতে পারে তা অনেক কিছুর উপর নির্ভর করে, যেমনঃ এস্ট্রয়েডের সাইজ কত বড়? তার ভর কত? এস্ট্রয়েডের গতি, আর তার হিটিং এঙ্গেল। এসবের উপর নির্ভর করবে কোন এস্ট্রেড পৃথিবীতে কি পরিমাণ ক্ষতি করবে? এসব ফ্যাক্ট থেকে বুঝা যায় এস্ট্রয়েড আমাদের পৃথিবীর জন্য কতই না বিপদজনক হতে পারে। যদি কোন এস্ট্রেডের সাইজ ১০ ফুট হয় তাহলে তা আকাশেই ধ্বংষ হয়ে যাবে।  এরকম এস্ট্রেডের সমাপ্তি আমাদের আকাশেই হয়ে যাবে।

আর এটি আতশ বাজির মতই মাটিতে এসে পড়বে। যদি এস্ট্রয়েড ১০০ ফিটের মত হয় তাহলে পৃথিবীর অনেকাংশ ক্ষতি করতে পারবে। এরকমই এক এস্ট্রয়েডের এক্সপ্লোশেন রাশিয়ার পোডকামেন্নায়া টুঙ্গুস্কায় হয়েছিল। আর এ ঘটনাকে টুংগোসকা ইভেন্ট বলেও  ডাকা হয়। এ ঘটনা টংগুসকার জংগলে ঘটেছিল। এ ঘটনার ফলে ২ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিশাল জংগল জ্বলে গিয়েছিল। কিন্তু এ এস্ট্রয়েডের কারণে শুধু ৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তাহলে চলুন এস্ট্রয়েডের সাইজ আরেকটু বাড়িয়ে দেখি।

এবার ভাবুন কোন এস্ট্রয়েডের সাইজ যদি ১ মাইলের আশেপাশে হয় তা হলে তা পৃথিবীকে ধ্বংষ করার সক্ষমতা রাখে কিনা জেনে নিই। যদি ভবিষতে এরকম কিছু হয় তাহলে ঐ দিন পৃথিবীতে বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের জীবন পরিবর্তন করে দিবে। এরকম কোন এস্ট্রয়েড যদি পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে তাহলে এটা বিবেচনা করা যাবে না যে তা পৃথিবীর কোন জায়গায় পড়ছে? এত বড় এস্ট্রয়েডকে আকাশেই ধ্বংষ করে দেয়া সহজ হবে না।

আর তা পৃথিবীর অরবিটে প্রবেশ করার পর প্রায় তিন সেকেন্ডের মধ্যেই পৃথিবীর ভূপৃষ্টে আঘাত করবে। এটি মাটিতে পড়বে নাকি সমুদ্রে পড়বে তাতে কিছু আসে যায় না। পৃথিবীতে আঘাত হানার পর এর হাজার মাইলের মধ্যে মানুষ হয়ত উড়ে যাবে না হয় পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এ রকম এস্ট্রয়েডের ধ্বাক্কার পর আগুনের যে ধারা উত্তপন্ন হবে তা হাজার মাইল এলাকাকে ধ্বংষ করার জন্য যথেষ্ট হবে।

আর হাজার মাইলের মধ্যে থাকা মানুষরা জানতেই পারবেনা কিসের সাথে তাদের ধ্বাক্কা লেগেছিল। যদি আপনাদের এটি ভয়ানক লাগে তাহলে একটু থামুন। কারণ আসল খেলা তো সবে শুরু হয়েছে। স্ট্রয়েডের পৃথিবীতে আঘাত হানার প্রভাবেই পৃথিবীর ক্রাস্ট বাষ্প আকারে উবে যাবে। আর যেখানে এ এস্ট্রয়েড আঘাত করবে সেখানে ১০০ ফুটের মত গর্ত হয়ে যাবে।

আর এ গর্তের প্রায় সব ক্রাস্ট বাষ্প হয়ে এট্মোসফিয়ারে উড়ে যাবে। এটা ছাড়াও বাতাসেও এর প্রভাব পড়বে। বাতাসের গতি প্রায় প্রতি ঘন্টায় ৯০০ মাইলে পৌছে যাবে। যদি এ এস্ট্রয়েড সমুদ্রে আঘাত করে তাহলে ক্ষতির পরিমান আরও বেশী হবে। সমুদ্রের ঢেউয়ের উচ্চতাও প্রায় ১ মাইলের বেশী উঁচু হয়ে যাবে। তাছাড়া সমুদ্রের পানি প্রায় ১০০ মাইল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়বে। এটি আজ অবদি আসা সবচেয়ে বড় সুনামী তে পরিণত হবে। এর ফলে সমুদ্রের কিনারে বসবাসকারী মানুষগুলো কয়েক সেকেন্ডে নিশ্চিন্ন হয়ে যাবে।

এ এস্ট্রয়েড যেখানে আঘাত করবে সেখান থেকে হাজার মাইল দূর পর্যন্ত তার শব্দ শুনা যাবে। শব্দের প্রভাব নোটিফিকেশনের মত কাজ তো অবশ্যই করবে। কিন্তু তারপরও মানুষ এটা থেকে নিজেদের বাচতে পারবেনা। পৃথিবীতে থাকা বেশির ভাগ বস্তু এস্ট্রইয়েডের তরঙ্গের প্রভাবে সবকিছু বাতাসে উড়ে যাবে। আর এদের মধ্যে কিছু জিনিসের পৃথিবীর অরবিট অতিক্রম করে মহাশূন্যে পৌছার যথেষ্ট সম্ভবনা থাকবে।

গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কি হবে
গ্রহাণু পৃথিবীতে আঘাত করলে কি হবে

এগুলোর পাশাপাশি স্ট্রয়েড পৃথিবীতে ধ্বাক্কা লাগার কারণে পৃথিবির তাপমাত্রা খুব কম সময়ে অনেক দ্রুতই বেড়ে যাবে। এ পরিস্থিতিতে পৃথিবীর তাপমাত্রা ৯০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। লেডের মত কঠিন পর্দাথকে গলার জন্য এ তাপমাত্র যথেষ্ট। এ তাপমাত্রা পৃথিবীকে কয়েক ঘন্টার জন্য জীবন্ত মাইক্রো ওভেনে পরিণত করবে। এ তাপমাত্রার কারণে সবার প্রথমে বনায়নের উপর প্রভাব পড়বে।

বনাঞ্চলে সব সময় বেশী গরমের কারণে আগুন লেগে যায়।  আর এটা তো তেজ গরমের চেয়েও বেশী বিপদজনক হবে। এত বেশী গরমের কারণে আপনাদের ঘরের কাপড়ে মধ্যেও আগুন লেগে যাবে। আর যে জিনিসগুলো মাটির নিচে নয় সে সব কিছু এ আগুনের কারণে পুরোপুরী জ্বলে যাবে। যেসব মানুষ বাইরে থাকবে তারাও এটা থেকে বাচতে পারবেনা। এখান তে বুঝা গেল এস্ট্রেডের ধ্বাক্কার ফলে পৃথিবীর প্রায় সব মানুষ ধ্বংষ হয়ে যাবে।

কিন্তু এখান থেকে কি কারো বাচার সম্ভবনা নেই? বিজ্ঞানীদের মতে ৭০০ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্রা ১০-২০ হাজারই এ ঘটনা থেকে বাচতে পারবে। তবে এ ঘটনার পর তাদের জীবন কেমন হবে? তারা কি নিজেদেরকে সৌভাগ্যবান মনে করবে? একদমই না। কারণ যারা বেঁচে থাকবেন তাদের জীবন মৃতদের চেয়েও ভয়ানক হবে। সবার প্রথমে তো খাওয়ার জন্য তাদের কাছে কিছুই থাকবেনা।

আপনারা জানেন এস্ট্রয়েড আঘাত হানার পর ভূপৃষ্টের বেশির ভাগ ধূলি কণা বাতাসে ভেসে বেড়াবে। আর এটা কয়েক বছর পর্যন্ত চলতে থাকবে। যার ফলে পৃথিবী থেকে না সূর্য দেখা যাবে, না চাষবাস করা যাবে? আর কোন গাছ পালার অস্তিত্বই থাকবে না। আর এটাও মনে করা হয় যে, অনেক প্রজাতীর প্রানীও ধ্বংষ হয়ে যাবে। আর যারা বেঁচে থাকবে তারা বনায়নের অভাবে মারা যাবে।

তবে এটি দেখা আকর্ষণীয় হবে যে, বেঁচে থাকা পশুরা মানুষদের খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করবে নাকি বেঁচে থাকা মানুষরা পশুদের ভক্ষণ করবে। মুলত সেদিন দেখার জন্য আপনাদের বেঁচে থাকতে হবে।

আরো পড়ুন –

সবচেয়ে বড় গ্রহ জুপিটার বা বৃহস্পতির সম্পর্কে কিছু তথ্য !

এ সম্পর্কে ভিডিও –

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন