আয়নার রুপকথা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের কিছু ধারণা !

আয়না নিয়ে বিশ্বের-বিভিন্ন স্থানে অদ্ভুত কিছু ধারণা !
আয়না নিয়ে বিশ্বের-বিভিন্ন স্থানে অদ্ভুত কিছু ধারণা !

আয়নার রুপকথা এবং প্রচলিত কিছু জিনিস। এই আয়না কে ঘিরে রয়েছে অনেক মতামত অনেক জল্পনা কল্পনা। প্রাচীন গ্রীসে ডাইনিরা আয়না ব্যবহার করতো।

খ্রিষ্টের জন্মের প্রায় তিনশ বছর আগের প্রাচীন গাঁথায় বলা আছে, ডাইনিরা নিজেদের দৈবাদেশ ও বাণীগুলো লিখে রাখতো আয়নার মাধ্যমে। তখনকার সময়ে প্রাচীন মিসরীয়রা আয়নায় ব্যবহার করতো তাম্র চূর্ণ।এছাড়াও প্রাচীন অ্যাজটেকরা আয়না বানাতে ব্যাবহার করতো অবসেডিয়ান, যা মূলত কাচের মতন দেখতে একজাতীয় কালো আগ্নেয়শিলা। তবে আয়না নিয়ে রূপকথার কি আর শেষ আছে! আরশিতে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ দেখার কাহিনী তো সবারই জানা। ঠিক তেমনি আয়নাকে নিয়ে রয়েছে অনেক রুপকথার গল্প।

যেমন – একসময় অ্যাজটেকরা বিশ্বাস করতো তারা দেবতা ‘তেজকেটলিপোকা’র সাথে সম্পৃক্ত।রাত্রি, সময় ও বংশ পরিক্রমায় পাওয়া স্মৃতির দেবতা ছিলেন এই তেজকাটলিপোকা।স্বর্গলোক থেকে এই মাটির পৃথিবীতে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে শক্তিধর এই দেবতা আয়নাকে তার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতেন। কথিত আছে, চীনের এক সম্রাট জাদুকরী এক আয়না বসিয়েই নিজের সাফল্য পেয়েছিলেন।আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছর আগে, ২৫ খ্রিষ্টাব্দে চীনের সম্রাট কিন শি হুয়াং দাবী করেছিলেন আয়নার দিকে তাকানো মানুষের মুখে তাকিয়ে তিনি তাদের আসল চিন্তা-ভাবনা ও মনের খবর পড়তে পারতেন।

আয়নার রুপকথা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের কিছু ধারণা !
আয়নার রুপকথা এবং বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের কিছু ধারণা !

আয়না নিয়ে অনেক কুসংস্কার এর প্রচলন রয়েছে। আয়না ভেঙে ফেললে সাত বছরের জন্য দু:খের দিন শুরু হয় বলেও মনে করতো অনেকে।প্রাচীন রোমানরা মনে করতো মানুষের সাতটা করে জন্ম থাকে। আর কেউ যদি কোনো জন্মে একটা আয়না ভেঙে ফেলে তবে আয়নার ভাঙা টুকরোগুলোর ভেতরে সেই ব্যক্তির আত্মা আটকা পড়ে যায়। আবার পুনর্জন্ম না হওয়া পর্যন্ত সেই ব্যক্তির মুক্তি ঘটে না বলেই মনে করতো রোমানরা।

অপরদিকে আয়না ভেঙে ফেলাকে পাকিস্তানে দুর্ভাগ্য নয় বরং সৌভাগ্য বা ইতিবাচক ঘটনার ইঙ্গিত বলেই মনে করা হয়। অর্থাৎ আয়না ভেঙে গেলে কোনো একটা অশুভ শক্তি গৃহ ছেড়ে যাচ্ছে বা শুভ কিছুর সূচনা ঘটতে যাচ্ছে বলে মনে করা হয়। তবে প্রাচীন কিছু সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করা হতো যে, আয়নার মধ্যে মানুষের আত্মা বা মানুষের ভেতরের প্রকৃত সত্ত্বার ছায়া পড়ে।

কিন্তু আয়না নিয়ে একটি বিখ্যাত রুপকথার গল্প হলো স্নোহোয়াইটের রুপকথা। জার্মানদের স্নো হোয়াইট রূপকথায় কথা বলা এক আয়নার কথা আছে। সেই আয়না সবসময় সত্য কথা বলতো। তারপর থেকে জার্মানির বাভারিয়া অঞ্চলের লোর এলাকার জনগণ একসময় বিশ্বাস করতো যে, আয়না সর্বদা সত্য কথা বলে। তবে সর্বপেরি বলা যায় আয়নার এই রুপকথা গুলো কতটা সত্যি তার বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে রুপকথা গুলো সত্যি অনেক ভাবনার বিষয়।

শেয়ার করুন -

১ মন্তব্য

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন