ডায়াপারের ব্যবসা থেকে কোটিপতি: কে এই ইভ্যালির এমডি রাসেল?

ডায়াপারের ব্যবসা থেকে কোটিপতি: কে এই ইভ্যালির এমডি রাসেল?
ডায়াপারের ব্যবসা থেকে কোটিপতি: কে এই ইভ্যালির এমডি রাসেল?

বিষ্ময়করভাবে মাত্র ৫ বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক হন ইভ্যালির এমডি রাসেল। সম্পূর্ণ নাম মোহাম্মদ রাসেল।

ডায়াপার ব্যবসার মাত্র ১ বছর পর প্রতিষ্ঠা করেন ইভ্যালি।

ইভ্যালি হাজার কোটি টাকার ব্যবসা করলেও বর্তমানে ব্যাংক এ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ৩০ লাখ টাকা। বাকি টাকা ইভ্যালির এমডি রাসেল ও চেয়ারম্যান নাসরিন হাতিয়ে নিয়েছেন। এমন তথ্যই উঠে এসেছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ‌র‌্যাবের তদন্তে।

২০১৮ সালে ইভ্যালির ব্যবসা শুরু করার ১ বছরের মাথায় বিভিন্ন মহলে আলোচনায় আসেন ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল।

ইভ্যালির পণ্য নিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া, গ্রাহকদের সঠিক সময় পণ্য না দেওয়াসহ নানা অনিয়মের কারণে খুব দ্রুতই সমালোচনায় আসে ইভ্যালি।

চটকদার বিজ্ঞাপন, নির্ধারিত পণ্যের বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য দেওয়া নিয়ে ব্যবসার জাল বিস্তার করতেই এই প্রতারণাগুলো একে একে ধরা পরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থ্যার কাছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদকসহ বিভিন্ন জায়গায় তদন্ত শুরু হলে দৌড়ঝাপ শুরু করেন ইভ্যালির এমডি রাসেল।

তবে শেষরক্ষা হলো না। গ্রেপ্তার হতে হলো ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলকে। একইসঙ্গে গ্রেপ্তার হলেন তার স্ত্রী তথা ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন।

ব্যাক্তিগত পরিচয়:

বিষ্ময়করভাবে উত্থান হয় মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী নাসরিনের। গ্রাহকদের প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকার মালিক হন এই দম্পত্তি।

মোহাম্মদ রাসেল ২০০৭ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন।

২০০৯ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেন। তারপর ২০১১ সালেই ঢাকা ব্যাংকে চাকরি পান।

ব্যবসায় জগতে পদার্পণ:

৬ বছর ব্যাংকে চাকরি করার পরে হঠাৎ করেই যেন আলাদ্বিনের চেরাগ হাতে পান ইভ্যালির এমডি রাসেল।

২০১৭ সালে তিনি শিশুদের ডায়াপারের ব্যবসা শুরু করেন।

১ বছরের মাথায় সেই আলাদ্বিনের চেরাগের ঝিলিক যেন আরও বাড়তে থাকে। ডায়াপারের ব্যবসা ছেড়ে ২০১৮ সালে ইভ্যালি প্রতিষ্ঠা করেন।

নানারকম চটকদার বিজ্ঞাপন এবং বাজারমূল্যের চেয়ে অর্ধেক কম মূল্যে পণ্য দিয়ে গ্রাহকদের নজর কাড়ে ইভ্যালি। যারফলে কয়েক লাখ মানুষ ইভ্যালিতে বিনিয়োগ করে।

আরো পড়ুন:
পাওনা টাকা না পেয়ে ধামাকা শপিং চেয়্যারম্যানের বাসার সামনে শত শত ব্যবসায়ী 
‘আমার শেষ নিঃশ্বাস অবধি আমি আপনাদের সঙ্গে আছি’ – ই-অরেঞ্জ প্রসঙ্গে মাশরাফি

আর এতেই আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যান ইভ্যালির এমডি রাসেল।

কোম্পানিতে তিনি সিইও এবং এমডি ও তার স্ত্রী নাসরিনকে চেয়ারম্যান পদে বসান। ভাড়া জায়গায় ধানমন্ডিতে প্রধান কার্যালয় এবং কাস্টমার কেয়ার দেন।

আমিন বাজার ও সাভারে দুইটি ওয়্যার হাউজ চালু করেন। কোম্পানিতে এক পর্যায়ে ২ হাজার ব্যবস্থাপনা স্টাফ ও ১৭শ অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ দেন।

বিভিন্ন সংস্থার তদন্তে উঠে আসা তথ্য:

র‌্যাব জানিয়েছে, ইভ্যালির ১ হাজার কোটি টাকার বেশি দেনা। তবে এত দেনা থাকলেও বর্তমানে ইভ্যালির ব্যাংক হিসাবে রয়েছে মাত্র ৩০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইভ্যালির দায় ও দেনা ছিল ৪০৩ কোটি টাকা। চলতি সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি টাকা। বিভিন্ন পণ্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রীম নেওয়া ২১৪ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন গ্রাহক ও কোম্পানির কাছে বকেয়া ১৯০ কোটি টাকা।

গ্রাহকদের টাকায় রাসেলের কয়েকটি কোটি টাকার সম্পত্তির সন্ধান পেয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইভ্যালি তার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই একটি লোকসানি কোম্পানি। কোন ব্যবসায়িক লাভ এ যাবত রাসেল করতে পারেনি।

ইভ্যালির এমডি রাসেল কি বলছেন?

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদের জেরে ইভ্যালির এমডি রাসেল জানায়, গ্রাহকদের টাকা দিয়েই যাবতীয় খরচ, বেতন, নিজস্ব খরচ নির্বাহ করতেন রাসেল-নাসরিন দম্পত্তি।

গত বছরের জুন থেকে ইভ্যালির কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বেতন বকেয়া থাকলেও তারা দুইজন মাসিক ৫ লাখ টাকা করে বেতন নিয়েছেন। তারা কোম্পানির অর্থেই দুইটি দামি গাড়ি রেঞ্জ রোভার অডি ব্যবহার করেন।

এছাড়াও কোম্পানির প্রায় ২৫-৩০টি যানবাহন রয়েছে।

রাসেল জানান, সাভারে তার ৩০ কোটি টাকার জায়গা সহ সম্পদ রয়েছে।

র‌্যাব বলছে, ইভ্যালির এমডি রাসেলের কোন দেশীয় বড় প্রতিষ্ঠানের কাছে দায়সহ ইভ্যালি বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এছাড়াও সর্বশেষ দায় মেটাতে না পারলে কোম্পানিকে দেওলিয়া ঘোষণা করারও একটি পরিকল্পনা নিয়েছিলেন তিনি।

মোহাম্মদ রাসেলের টার্গেট ছিল তৈরিকারক ও গ্রাহক চেইন বা নেটওয়ার্ক থেকে বিপুল অর্থ তুলে নেওয়া। ইভ্যালি অন্য কোন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে সেসব অর্থ নিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া।

কিন্তু তার আগেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হলেন মোহাম্মদ রাসেল।

নানা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের প্রেক্ষিতে রাসেল-নাসরিন দম্পত্তি কোন স্বদত্তোর দিতে পারেননি।

বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির দায় ১ হাজার কোটি টাকার বেশি।

কিউরিয়াস ইউটিউব চ্যানেল

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন