উত্তর কোরিয়া কেন বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে?

উত্তর কোরিয়া কেন বারবার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করছে?
উত্তর কোরিয়ায় সর্বশেষ উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্র

গত ৪০ বছরে উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৫০ কোটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এগুলো ছিল তাদের শক্তির প্রদর্শন এবং একইসাথে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। ফলে দেশটির উপর একের পর এক কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জতিসংঘ।

কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য এত কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েও উত্তর কোরিয়া কেন এমন করে আসছে? কারণ-

১. তাদের সক্ষমতা রয়েছে

পরীক্ষা করার জন্য তাদের নতুন অস্ত্র আছে।

উত্তর কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা কিম জং-আনের শাসনামলে অনেক নতুন অস্ত্র তৈরি করেছেন।

এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর গতি যেমন তীব্র তেমনি অনেক দূরে হামলা চালাতে সক্ষম। এবং এগুলো আগের চাইতেও শক্তিশালী।

পিয়ংইায়ং এই অস্ত্রগুলোকে মূল্যবান তলোয়ার হিসেবে দেখে এবং তারা দাবি করে যে এসব অস্ত্র তাদের বিরুদ্ধে যেকোন আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজন।

২. প্রতিবেশীদের সতর্ক করতে

দক্ষিণ কোরিয়ায় কোন পারমাণবিক অস্ত্র নেই। কিন্তু তাদের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের আছে। এই সুরক্ষা পদ্ধতি ‘পারমাণবিক ছাতা’ নামে পরিচিত।

দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৮,০০০ মার্কিন সৈন্য রয়েছে। এবং উত্তর কোরিয়া সবসময় ওই দুই দেশকে যৌথ মহড়া চালাতে দেখেছে। দেশটি এই মহড়াকে তাদের যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে। এবং এর জবাবে প্রায়ই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালায়।

৩. জনসমর্থন অর্জনে

সাংবাদিকরা ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং ভাবেন যে, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর তাদের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে!

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কিংবা নিক্ষেপ নিয়ে প্রতিবেদনগুলো তৈরি করা হয় দেশটির অভ্যন্তরীণ দর্শকদের কথা ভেবে।

বিশেষ করে যখন সময় কঠিন যায়।

এই মুহুর্তে উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক অবস্থা ভয়াবহ। করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ব-আরোপিত নির্বাসনের পর তাদের প্রধান মিত্র চীন থেকে পণ্য সরবরাহ হ্রাস পেয়েছে। এমনকি কিম জং-আন সাম্প্রতিক সামরিক কুচকাওয়াজে কান্নাজড়িত কন্ঠে ক্ষমা চেয়েছেন।

আরো পড়ুন:
উত্তর কোরিয়া দেশ এবং এর ইতিহাস 
কিম পরিবার ও উত্তর কোরিয়ার শাসন-ব্যবস্থা 
উত্তর কোরিয়া দেশের কিছু অদ্ভুত নিয়ম 

তার ভাষায়, “জনগণের দেশপ্রেম এবং বীরত্বপূর্ণ উৎসর্গের প্রতি এই ধন্যবাদ অশ্রু ছাড়া দেওয়া যাবে না।”

কখনও কখনও দেশটি তাদের জনগণকে দেখানোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে, কারণ এটাকেই তারা তাদের গর্ব করার মতো কিছু মনে করে।

এর মাধ্যমেই সাধারণ মানুষকে শত্রুদের বিরুদ্ধে এক থাকার আহ্বান জানানো হয়।

৪. গুরুত্ব পেতে:

সবশেষে উত্তর কোরিয়া চায় তাদেরকে যেন দেশের জনগণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং বিশ্ব গুরুত্ব দিয়ে দেখে।

যুক্তরাষ্ট্র যতোই তাদের পারমাণবিক অস্ত্র দেখিয়ে যুদ্ধকে ‍উস্কে দিক না কেন তারা মনে করে এখন তাদের একটি শক্তিশালী যুদ্ধ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আছে। এখন অন্য দেশ তাদের কিছুই করতে পারবে না।

বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করেন, উত্তর কোরিয়ার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো একটি সাধারণ পারমাণবিক শক্তি হয়ে ওঠা যাতে বিশ্ব জানে যে তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র আছে।

পিয়ংইয়াং প্রমাণ করেছে যে এটি কয়েক দশকের নিষেধাজ্ঞা সহ্য করতে পারে।

দেশটির প্রযুক্তিগত উন্নয়নে বাধা দেওয়া হয়নি। বরং, উত্তর কোরিয়া এখনও তাদের সীমিত তহবিলের অর্থ তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যয় করছে। যদিও একারণেই দেশটির সাধারণ মানুষ ভুগছেন।

কিউরিয়াস ইউটিউব চ্যানেল

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন