মেগা সিটিকে ঠাণ্ডা রাখার সহজ উপায়

মেগা সিটিকে ঠাণ্ডা রাখার সহজ উপায়
শাহতাজ

পাকিস্তানে করাচিতে ৫০ সেলসিয়াস তাপামাত্রা। তীব্র তাপদাহে হাসফাঁস করছেন নাগরিকরা। এর মধ্যে একজন উদ্যোক্তা দেখিয়েছেন আলোর পথ। তিনি বাতলে দিয়েছেন মেগা সিটিকে ঠাণ্ডা রাখার খুবই সহজ এক উপায়।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পাকিস্তানের করাচি শহরটিতে চরমভাবাপন্ন তাপমাত্রা তৈরি হয়। ২০১৫ সালে, করাচিতে ৪৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপামাত্রা হয়েছিল। তীব্র তাপদাহে সেবার ১২০০ মানুষ মারা যায়। আর এই মাত্রা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলছেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে করাটিতে বসবাস করি। আগে এত গরম ছিলো না, এখন প্রচণ্ড গরম। আর দরিদ্ররাই এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে ‍উঠেছে।’

কিভাবে একটি মেগা সিটিকে ঠাণ্ডা রাখা যাবে?

গবেষণায় দেখা গেছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলো চলে জীবাশ্ম জ্বালানী থেকে তৈরি বিদ্যুতে। এবং এগুলো প্রচুর গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ করে। যে কারণে বর্তমানে বেশিরভাগ শহর উষ্ণতর হয়ে উঠছে।

এর মধ্যে আশার আলো হয়ে এক উদ্যোগী ব্যাক্তি এসেছেন, যিনি পুরো করাচির মতো মেগা সিটিকে ঠাণ্ডা রাখার প্রয়াসে এর তাপমাত্রা কমাতে চান। তার নাম শাহজাদ কুরেশি

তিনি বলছেন শহুরে বনাঞ্চল তৈরির মাধ্যমে তিনি করাচির ভবিষ্যৎ পাল্টে দেবেন।

তার ভাষায়, ‘পাঁচ বছর পূর্ব করাচিতে একটি দাবদাহ হয়। আমার স্বপ্ন করাচির ভবিষ্যৎ পাল্টে দেয়া। তিন বছরের মধ্যে, যদি আমরা শহরে বন তৈরি করতে পারি, সেটি শহরের তাপমাত্রা বদলে দেবে।”

বনভূমি ওই শহরের তাপমাত্রা ব্যাপকভাবে কমাতে পারে। কারণ আমরা সবাই জানি অন্যান্য স্থানের তুলনায় বনের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক কম থাকে। প্রায় ৬ বেশি ঠাণ্ডা থাকে বন।

কারণ গাছ কার্বন-ডাই-অক্সাইড শুষে নেয়, যা জলবায়ু পরিবর্তন কমায়।

বর্তমান করাচির ক্লিফটন আরবান ফরেস্টটি তিন বছর আগে একটি আবর্জনার স্তুপ ছিলো। বলতে গেলে আবর্জনার পাহাড় ছিলো এই জায়গাটি।

শাহজাদ একজন ব্যবসায়ী যিনি অবসরে গাছ লাগান। এই জঞ্জালে ভরা স্থানটিকে তিনি গাছ লাগিয়ে পার্কে পরিণত করেছেন। তিনি তার ‘শহুরে বন’ তৈরির স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে অর্থায়ন হিসেবে গণ-তহবিল ব্যবহার করেছেন।

আরো পড়ুন:
পৃথিবীর দীর্ঘতম রাস্তা 
ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ চুরি হয় কিভাবে? এর থেকে বাঁচার উপায় কি? 
ইউরোপ মহাদেশের বৈচিত্রপূর্ণ এক দেশ – রোমানিয়া

তিনি বলেন, আমি কল্পনা করতে শুরু করে দিয়েছি, এই শহরে এ ধরণের ২৫টি পার্ক হবে। আপিনি যে শহরে জন্ম নিয়েছেন, যার রাস্তায় ক্রিকেট খেলেছেন তাকে আপিনি চোখের সামনে নষ্ট হয়ে যেতে দেখছেন। আপনার তখন মনে হবে যে জলবায়ুর পরিবর্তন যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে যে শহরে আপনার বাস সেটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে যাবে। তাহলে আমার প্রশ্ন হচ্ছে এটা আপনি কিভাবে হতে ‍দেবেন। অবশেষে কিছু সুসংবাদ হচ্ছে আমরাও এর সাথে সাথে পরিবর্তিত হবো। আর আগামী পাঁচ বছরে যে পরিবর্তন ঘটবে তা দেখে আপনি অবাক হবেন।”

এই স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করতে শহাজাদের কর্তৃপক্ষের সহায়তা দরকার হবে। কিন্তু বৈঠকের পর বৈঠক করেও তিনি কোন সহায়তা পাননি।

এক্ষেত্রে তার উদ্যোগকে সম্মান জানিয়ে পাকিস্তানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় উপদেষ্টা মুর্তাজা ওয়াহাব তাকে এই বনাঞ্চল গড়ে তুলার অনুমতি দিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের আসলে কাজ শুরু করতে হবে এবং একসাথে কাজ করতে হবে। যেহেতু আমাদের জমি আছে এবং ইচ্ছাও আছে তাহলে শুরু করে ফেলি। এটা পরিবেশের জন্য চমৎকার ফলদায়ক। তো চলুন এটা করে ফেলি।”

শাহজাদ তার নতুন শহুরে বনের কাজ শরু করেছেন। আনন্দ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এই জায়গার দিকে তাকিয়ে আমি আসলে শিহরণ অনুভব করছি। এর অপার সম্ভাবনা রয়েছে। দেরি না করে আমাদের এখন থেকেই এখানে গাছ লাগানো দরকার। ইনশাআল্লাহ্, আজ থেকেই আমার কাজের শুরু।”

আশা করাই যায় শাহজাদ কুরেশির এই ভিন্ন উদ্যোগ করাচির মতো মেগা সিটিকে ঠাণ্ডা রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। এবং ভবিষ্যতে তার এই কৌশলকে ব্যবহার করে অন্যান্য দেশ তথা সমগ্র বিশ্বের ব্যাপক উন্নতি সাধন হবে।

ইউটিউব চ্যানেল লিংক

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন