বিশ্বমাতা মাদার তেরেসা – ‍যিনি ছিলেন এক অনন্যা মহীয়সী নারী

বিশ্বমাতা মাদার তেরেসা – ‍যিনি ছিলেন এক অনন্যা মহীয়সী নারী
বিশ্বমাতা মাদার তেরেসা – ‍যিনি ছিলেন এক অনন্যা মহীয়সী নারী

নীল-পাড় সাদা সুতি শাড়ির সঙ্গে রুক্ষ চামড়ার মায়াবী এক চেহারা। শুধু এতটুকু বললেই চট করে যে মানুষটির ছবি চোখের সামনে ভেসে উঠে তিনি হলেন- মাদার তেরেসা।

মহীয়সী এই নারী সমগ্র পৃথিবীতে মানবতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আর্ত-মানবতার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করা এক বিশ্বমানবী তিনি।

বিশ্বজুড়া নামডাক তাঁর। গোটা পৃথিবীর কাছে তিনি বিশ্বমাতা হিসেবেই পরিচিত।

আজ আমরা জানবো এই মহীয়সী নারীর জীবনবৃত্তান্ত।

নামকরণ:

মাদার তেরেসার আসল নাম ছিল অ্যাগনিস গঞ্জা বোজাঝিউ।

তাকে বলা হতো বিশ্বমাতা। ১৯২৯ সালের ২৩ মে তাঁর নাম রাখা হলো ‘তেরেসা’। মূলত তেরেসা ছিল মূলত লিসিউ কনভেন্টের জনৈক ফরাসি কারমেলাইট এক সন্ন্যাসিনীর নাম। যিনি খুব অল্প বয়সে মারা গিয়েছিলেন।

কিন্তু তার জীবদ্দশার স্বল্প দিনেও তিনি এই শিক্ষা দিয়েছিলেন যে, নিজেকে হাসি-খুশি এবং প্রসন্ন রাখলে নিতান্ত সাধারণ বা একঘেয়ে কাজের মাধ্যমেও সৃষ্টিকর্তার সেবা করা যায়।

তার নামানুসারেই অ্যগনিস গঞ্জা বোজাঝিউ এর নাম হয় তেরেসা।

জন্মগ্রহণ:

অটোমান সাম্রাজ্যের আলবেনিয়া রাজ্যের স্কপিয়েতে তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯১০ সালে ২৬শে অগাস্ট এ।

পরিবার:

মাদার তেরেসার পিতা-মাতা ছিলেন আলবেনীয়।

তার পিতা-মাতার নাম নিকোলা ও দ্রানা বয়াজু।

তিনি ছিলেন এই দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান।

১৯১৯ সালে মাত্র ৮ বছর বয়সে পিতৃবিয়োগ হন তিনি। এরপর থেকে মায়ের আদর্শেই বড় হয়ে ‍ওঠেন মাদার তেরেসা।

পিতার মৃত্যুর পর মা তাঁকে ক্যাথেলিক আদর্শে বড় করে তুলেন।

ছেলেবেলা:

শৈশবে মায়ের কাছ থেকেই ধর্মশিক্ষার যাত্রা শুরু এই মহীয়সী নারীর। আর সেই ছোটবেলা থেকেই তাঁর প্রাণের গভীরে ধ্বনিত হতে থাকে যীশুখ্রিস্টের সেবার বাণী।

তাই সেসময়ই অসুস্থ আত্মীয়ের জন্য ডাক্তার ডাকতে প্রবল ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেই ছুটেছিলেন স্কপিয়ের দুর্গম পাহাড়ী পথে।

ছোটবেলাতেই তিনি ধর্মযাজীকা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

কলকাতায় সফলরত ইউগোস্লাভিয়ার বিভিন্ন চিঠি-পত্র পড়ে অনুপ্রাণিত হন। এরপর যোগাযোগ ঘটে আয়ারল্যান্ডের লোরেটো সন্ন্যাসীনীদের সঙ্গে।

এরপর তিনি স্থির করেন কলকাতাকেই বেছে নিবেন নিজের কর্মকাণ্ড হিসেবে।

তারপর মাদার তেরেসা আয়ারল্যান্ড হয়ে ভারতে পৌছান মাত্র ১৮ বছর বয়সে।

কর্মজীবন:

মাদার তেরেসা কলকাতার এন্টেলি অঞ্চলের সেন্ট মেরী স্কুলে ভূগল শিক্ষিকা হিসেবে যোগদান করেন। প্রথমে শিক্ষিকা এবং তারপর অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি এই স্কুলে মোট ১৭ বছর কাজ করেছেন।

এর মাঝে কিছুদিনের জন্য পাটনায় গিয়েছিলেন মেডিকাল ট্রেনিং নেবার জন্য।

মাদার তেরেসা হয়ে উঠার গল্প:

দুঃস্থ এবং সহায়-সম্বলহীন মানুষদের মধ্যে সেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করে তিনি খুঁজে নিতে চেয়েছিলেন বৃহত্তর কাজের পরিধি।

অবশেষে ১৯৪৬ সালে ট্রেনে দার্জিলিং যাওয়ার পথে ইশ্বরের আদেশস্বরূপ সিদ্ধান্ত নিলেন যে লোরেটোর নিশ্চিন্ত জীবন আর নয়। এবার সরাসরি গিয়ে দাঁড়াতে হবে অসহায় মানুষদের পাশে।

এই অভিপ্রায়ে তিনি বস্তিতে বস্তিতে গিয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যে কাজ করার জন্য পোপ দ্বাদশ পায়সের কাছে অনুমিত চাইলেন স্কুল শিক্ষিকা হিসেবে তাঁর কাজ ছাড়ানোর জন্য। যথাসময়ে তিনি অনুমতিও পেয়েছিলেন।

রাস্তার অসহায়, রুগ্ন শিশুদের সর্বদাই বুকে টেনে নিতেন মাদার তেরেসা
রাস্তার অসহায়, রুগ্ন শিশুদের সর্বদাই বুকে টেনে নিতেন মাদার তেরেসা

কিন্তু তার আগেই তিনি কলকাতার মতিঝিলের কাছে বস্তিতে কাজ শুরু করে দিয়েছিলেন।

সেখানে স্কুল ছিল না। ফাঁকা মাঠ। অতঃপর গাছের তলায় ২/৩ জন ছাত্রকে নিয়ে ক্লাশ শুরু করলেন।

বাচ্চাদের কাগজ-কলম কিনবার সামর্থ্য ছিল না বিধায় জমির উপর কাঠি দিয়ে লিখে অক্ষর পরিচয় জ্ঞান দেওয়া চলতে লাগলো।

কিছুদিন পর এক সহৃদয় ব্যাক্তি ২/৪টি চেয়ার দিলেন। আরও কিছুদিন পর এলো বেঞ্চ, ব্লাক বোর্ড ইত্যাদি।

২/৩ জন শিক্ষার্থীও এগিয়ে এসেছিলেন সাহায্য করতে। ধীরে ধীরে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যাও বাড়তে লাগলো।

দেখতে দেখতে স্কুল চালু হয়ে গেলো পুরোদমে।

এই সময়কার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ব্যাক্ত করতে গিয়ে মাদার তেরেসা লিখেছেন-  

“আমি খুবই মজা পেয়েছি এর আগে এইরকম ছোট বাচ্চাদের পড়াইনি তো ব্লাক বোর্ডের বদলে মাটিতে ক,খ,গ লিখতাম আর দেখতাম বাচ্চারা খুব খুশি দিন দিন খুব উন্নতি করছে একটি মেয়েকে দেখতাম কুষ্ঠ হয়েছে কি ভয়ানক দৃশ্য! ওর নিজের লোকেরাই ওকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে তার আঙ্গুলগুলো নেই

মাদার তেরেসা এসব দেখেছেন আর ক্রমেই দৃঢ় থেকে দৃঢ়তর হয়েছেন।

১৯৪৮ সালের এপ্রিল মাসে পোপের থেকে অনুমতি পেলেন।

গাওন ফেলে রেখে নীল-পাড় শাড়িকে বেছে নিলেন মাদার তেরেসা।    

১৪ নম্বর ক্রিকলেনের একটি ছোট্ট ঘড় থেকে যাত্রা শুরু করলেন মাদার তেরেসা।

১৯৪৯ সালে তাঁর প্রথম সাথী হলেন সুভাসিনী দাশ। যিনি আজকের সিস্টার এ্যাডনেস।

১৯৫০ এর ৭ই অক্টোবর প্রতিষ্ঠা হলো মিশনারিজ অব চ্যারিটি (দাতব্য ধর্মপ্রচারক সংঘ)’র।

এই ভবনটি উঠে এলো লোয়ার সার্কুলার রোডে। বর্তমানে যেটি ভারতের আচার্য্য জগদীশ চন্দ্র বসু রোড।

এখন সেই বাড়িটি মাদার হাউজ নামে পরিচিত। সেখানে মাত্র ৫ টাকা এবং ১০ জন সহযোগী নিয়ে কাজ শুরু করেন মাদার তেরেসা। এরপর শুধুই পথ চলা।

১৯৫২ সালে এই চ্যারিটির অধীনেই গড়ে ওঠে ‘নির্মল হৃদয়’ এবং কুষ্ঠ রোগীদের সেবার জন্য ‘শান্তিনগর’।

১৯৫৫ সালে মাদার তেরেসা নিজ উদ্যোগে স্থাপন করেন ‘নির্মল শিশুভবন’।

১৯৬৩ সালে তাঁরই নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয় ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’-এর ব্রাদার শাখা। মাত্র ১২ জন সদস্য নিয়ে সেসময় তিনি চ্যারিটির যাত্রা শুরু করেছিলেন। সময়ের ব্যবধানে আজ তা কয়েক হাজার ছাড়িয়েছে।

শুধু ভরতেই নয়, ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য দেশেও দুস্থ মানুষদের নিকট তাঁর সেবা পৌছে দেবার জন্য মাদার তেরেসা ভারতের বাইরে গড়ে তুলেন বিভিন্ন মিশনারি অব চ্যারিটি।

প্রথমবারের মতো ১৯৬৫ সালে ভেনিজুয়েলায় মিশনারি অব চ্যারিটির শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

শুরু হয় মাদার তেরেসার বিশ্বজোড়া কর্মযজ্ঞের পথে যাত্রা।

১৯৬৮ সালে রোম, তানজানিয়া এবং অস্ট্রিয়াতেও মিশনারি অব চ্যারিটির শাখা খোলা হয়।

এরপর ১৯৭০-এর দশকে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকার মতো মহাদেশগুলোর কয়েক ডজন দেশে এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়।

আর ১৯৭০-এর দশকের মধ্যেই সমাজসেবী এবং অনাথ ও আতুরজনের বন্ধু হিসেবে মাদার তেরেসার খ্যাতি বিশ্বেজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।

বিশ্বমাতা মাদার তেরেসা:

বাহুবলে নয়, বাহ্যিক ঐশ্বর্য্যের প্রদর্শনীতেও নয়। বিশ্বকে শুধু প্রেম এবং ভালোবাসা দিয়েই জয় করা সম্ভব। তা নতুন করে প্রমাণ করেছেন মাদার তেরেসা।

পথের অসহায় শিশুকে পরম স্নেহে বুকে টেনে নিয়েছেন তিনি। কুষ্ঠ রোগীর ক্ষতস্থান অকাতরে পরিষ্কার করেছেন।

কত নিঃস্ব-রিক্ত,পঙ্গু-আর্তজন তাঁকে ঘিরে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখেছে, নতুন করে জীবনের অর্থ খুঁজে পেয়েছে তার কোন ইয়ত্তা নেই।

নীলরতন সরকার হাসপাতালের সামনে পড়েছিলেন এক বৃদ্ধ। মাদার তেরেসা তাকে তুলে নিলেন। তার সেবা করলেন।

লন্ডনের এক নিঃসঙ্গ মহিলা যিনি নিজেই নিজেকে চিঠি লিখতেন। মাদার তেরেসা এগিয়ে যান তার জীবনকে আনন্দে ভড়িয়ে তুলবার জন্য।

এছাড়া মুমুর্ষ শিশুকে আদরে বুকে টেনে নিতেন তিনি। পরিত্যক্ত শিশুদের আশ্রয় দিতেন।

মাদার হাউসের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘শিশুভবন’। কালিঘাটে গড়ে তোলা হয়েছে ‘নির্মল হৃদয়’। রুগ্ন এবং অসহায়দের সেবা কেন্দ্র।

দেখতে দেখতে টিটাগড়, আসানসোল, দিল্লীতে গড়ে ওঠে কুষ্ঠরোগীদের সেবার জন্য আশ্রম।

আরও বিভিন্ন সেবাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে। বোম্বাই, রাচি, কাশী থেকে শুরু করে ইংল্যান্ড, আমেরিকা, আফ্রিকা, জাপান, পোল্যান্ড, ইউগোস্লাভিয়া, রাশিয়া কোথায় নেই মাদার তেরেসার সেবা কেন্দ্র?

প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ কুষ্ঠরোগী সেবা পেত। এছাড়াও ৬টি এইডস নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর সংখ্যা ৭০০ এর কাছাকাছি।

আর্ত মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত মাদার তেরেসা
আর্ত মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করতে সদা প্রস্তুত মাদার তেরেসা

তাঁর শুরু করা সেই কর্মযজ্ঞ এখনো নিঃশ্বেস হয়ে যায় নি। বর্তমানে ১’শটিরও বেশি দেশের প্রায় ৫০০ টি কেন্দ্রে ৫ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে খাবার বিতরণ করা হয়। বস্তিতে ২০ হাজারেরও বেশি শিশুকে ১২৫টির অধিক স্কুলে পড়ানো হয়।

কেন মাদার তেরেসা এরকম সেবাকর্মে নিজেকে উৎসর্গ করলেন?

তাঁর কথাতেই, “যীশুই বলেছেন আমি ক্ষুদার্থ, আমাকে অন্ন দাও; আমি নির্বস্ত্র, আমাকে বস্ত্র দাও; আমি নিরাশ্রয়, আমাকে আশ্রয় দাও। আমাকে ভালোবাসা দাও।”

মাদার তেরেসা বলতেন, “যদি চাঁদে গরীব মানুষ থাকে আমি সেখানেও যাব।”

মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাস্থল হোয়াইট হাউজ দেখে মুগ্ধ হয়ে অবাক হয়ে তিনি বলেছিলেন, “এখানে কত জায়গা! যদি আমার সব গরীব লোকগুলোকে এখানে আনতে পারতাম, তাহলে জায়গাটা আর ফাঁকা থাকতো না।”

অসহায় এবং নিরাশ্রয়দের মাদার তেরেসা অত্যন্ত ভালোবাসতেন। গভীর মমতায় আগলে রাখতেন তাদের।

এরই টানে তিনি দুর্ভিক্ষপীড়িত ইথিওপিয়া, যুদ্ধবিধ্বস্ত বেইরুট, ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত আলবেনিয়া সর্বোত্র ছুটে গিয়েছেন।

ইরাকেও যুদ্ধ বন্ধের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ, এবং ইরাকের প্রধান সাদ্দাম হুসাইনের কাছে।

দাঙ্গাবিধ্বস্ত কলকাতাতেও নিঃসঙ্গ চিত্তে ঘুরে বেড়িয়েছেন এই নারী। সেবা করেছেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকেই।

নীল-পাড় সাদা শাড়ি পরিহিতা এই নারী কলকাতার আনাচে-কানাচে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে পৌছে গিয়েছেন আর্ত মানুষের সেবার উদ্দেশ্যে।

পুরষ্কার ও সম্মাননা:

মাদার তেরেসা তাঁর সেবাকর্মের জন্য সারা বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এই কৃতিত্ব তিনি জীবদ্দশায় পান। তাকে বিশ্বমাতা বলে ডাকা হয়।

১৯৭৯ সালের ১৭ অক্টোবর মাদার তেরেসা তার সেবাকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।

১৯৮০ সালে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘ভারতরত্ন’ লাভ করেন।

১৯৮৫ সালে পান সিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম,

১৯৭৮ সালে বালজান পুরস্কার প্রাপ্ত হন।

এছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তি, সংস্থা এবং একাধিক রাষ্ট্রের সরকার তাঁর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বর্তমানে তাঁকে সান্ত হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এভাবেই আর্তমানবতার প্রতীক মাদার তেরেসা সারাটা জীবন মানবসেবার কাজের মাঝে ডুবে ছিলেন।

মৃত্যু:

অতিরিক্ত পরিশ্রম এবং বয়সের চাপে এক সময় ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন মাদার তেরেসা।

১৯৮৩ সালে পোপ জন পল-২ এর সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশে তিনি রোম সফরে বের হন। সে সময় মাদার তেরেসার প্রথম হার্ট অ্যাটাক হয়।

১৯৮৯ সালে আরও একবার হার্ট অ্যাটাক হয় তাঁর। এরপর তাঁরর শরীরে কৃত্রিম পেসমেকার স্থাপন করা হয়।

১৯৯১ সালে মেক্সিকোতে অবস্থানকালে নিউমোনিয়া হওয়ায় হৃদরোগের আরও অবনতি ঘটে।

আরো পড়ুন:
ইতিহাসের সর্বপ্রথম বিজ্ঞানী – থেলিস 
প্রয়াত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়; একনজরে তারঁ বিখ্যাত সিনেমা 
শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার গল্প

এতকিছুর মধ্যেও ১৯৯৬ সালের এপ্রিলে পড়ে গিয়ে তার কলার বোন ভেঙে যায়। অতঃপর একই সালে আগস্ট মাসে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন।

শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে ১৯৯৭ সালের ১৩ মার্চ মিশনারিজ অফ চ্যারিটির প্রধানের পদ থেকে তিনি সরে দাঁড়ান।

সবশেষ ৫ই সেপ্টেম্বর ১৯৯৭ সালে এই মহীয়সী নারী পৃথিবীবাসিকে কাঁদিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

বিশ্ববাসী আজও তাঁকে মায়ের শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।

মাদার তেরেসার কিছু বাণী:

  • যদি তুমি মানুষকে বিচার করতে যাও তাহলে ভালোবাসার সময় পাবে না।

  • ভালোবাসা নিয়ে সর্বত্র ছুটে যাও। ভালোবাসা না বিলিয়ে কোনো জায়গা থেকে ফিরে এসো না।

  • যদি তুমি একশ মানুষকে খাওয়াতে না পার তাহলে একজনকে খাওয়াও।

  • যতক্ষণ পর্যন্ত নিঃস্বার্থভাবে কাউকে সাহায্য না করেছ ততক্ষণ পর্যন্ত জীবনে কিছুই করতে পারনি।

  • কেবল সেবা নয়, মানুষকে দাও তোমার হৃদয়। হৃদয়হীন সেবা নয়, তারা চায় তোমার অন্তরের স্পর্শ।

  • আনন্দই প্রার্থনা, আনন্দই শক্তি, আনন্দই ভালোবাসা।

  • তুমি দৃশ্যমান মানুষকে যদি ভালোবাসতে না পার তবে অদৃশ্য ঈশ্বরকে কী করে ভালোবাসবে?

  • এ জীবনে আমরা সুমহান কিছু করতে পারব না। কিন্তু অল্প করে হলেও মানুষকে মহানভাবে ভালোবাসতে পারব।

  • আমাদের মধ্যে সবাই সব বড় কাজগুলো করতে পারবে তা নয়।কিন্তু আমরা অনেক ছোট কাজগুলো করতে পারি আমাদের অনেক বেশি ভালোবাসা দিয়ে।

  • ছোট বিষয়ে বিশ্বস্ত হও কারণ এর ওপরই তোমার শক্তি নির্ভর করে।

  • হৃদয়কে স্পর্শ করতে চায় নীরবতা। কলরবের আড়ালে নীরবেই পৌঁছাতে হয় আর্তের কাছে।

  • তুমি যখন কারও সঙ্গে দেখা কর, তখন হাসিমুখ নিয়েই তার সামনে যাও। কেননা হাস্যোজ্জ্বল মুখ হলো ভালোবাসার শুরু।

  • আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রার্থনা করি—

প্রভু, আমাদের যোগ্য কর, যেন আমরা পৃথিবীতে যেসব মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে ক্ষুধার মধ্যে জীবনযাপন করেন, মৃত্যুমুখে পতিত হন, তাদের সেবা করতে পারি।

প্রকৃতই মাদার তেরেসা ছিলেন দ্বীনের বন্ধু, দরিদ্রের আশ্রয়, রুগ্নের ভরসা। তাঁর কিছুই ছিল না। ছিল শুধু দেওয়ার মতোন মন-মানসিকতা। তাই তিনি ছিলেন রাজ-রাজেশ্বরী।

পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষের অকুণ্ঠিত শ্রদ্ধা ভালোবাসার পাত্রী হয়ে ওঠেছিলেন এক অনন্যা বিশ্বমানবী।

ঘুরে আসুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল থেকে 

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন