ডেল্টা প্লাস: কীভাবে বাঁচবেন?

ডেল্টা প্লাস: কীভাবে বাঁচবেন?
ডেল্টা প্লাস: কীভাবে বাঁচবেন?

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ভয়াবহ তাণ্ডব চালানো ডেল্টা ধরণের পর এবার পাওয়া গেছে কোভিড-১৯ এর আরো শক্তিশালী রূপ ডেল্টা প্লাস।

২০১৯ সালের শেষের দিকে চিনের উহানে ধরা পড়ে করোনা ভাইরাস। এরপর তা ছড়িয়ে পড়ে গোটা বিশ্বজুড়ে।

রূপ পরিবর্তন ভাইরাসের অনেকটাই সহজাত বিষয়। যার ব্যতিক্রম ঘটেনি  কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রেও।

তবে নব রূপে অধিকাংশ ভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়লেও নতুন শক্তি নিয়ে বার বার ফিরে আসছে কোভিড-১৯।

বাংলাদেশের প্রতিবেশি দেশ ভারতে কয়েক মাস ধরে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ধরণ। এর প্রভাবেই করোনা ভাইরাসে ব্যাপক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দেশটি।

এর প্রভাব থেকে বাঁচতে ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোয় কড়াকড়ি নির্দেশ আরোপ করে বাংলাদেশ।

কিন্তু এর মাঝেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে সাথে করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ধরণ ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশে।

ভারতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হলেও এরই মধ্যে আরও একটি ভয়ংকর ধরণের খবর আসে। সেটি হলো করোনা ভাইরাসের নতুন আরও ভয়ানক রূপ ডেল্টা প্লাস।

এটিও ভারতের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের পাশাপাশি পৃথিবীর নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে।

আইইডিসিআর এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলছেন, “অধিকাংশ ভাইরাসের পরিবর্তিত রূপ দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু কিছু কিছু ভাইরাস আগের চাইতেও মারাত্মক শক্তিশালী হয়। ডেল্টা ভাইরাস তেমনি একটি পরিবর্তিত রুপ। ডেল্টা প্লাসও ঠিক তেমনি হবে বলে ভারতের বিজ্ঞানীরা বলছে।”

বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষ এই সংক্রমাক রোগ বিশেষজ্ঞের মতে কোভিড-১৯ এর পরিবর্তিত শক্তিশালী রূপ থেকে বাঁচার উপায় একই। কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানা।

আরো পড়ুন:
ভারতে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর রেকর্ড হবার পেছনে ৩ কারণ খুঁজে পেল WHO 
করোনা রোগীর শরীরে অক্সিজেনের ঘাটতি হলে কি করবেন? 
করোনা রোগীর শরীরে অক্সিজেন কমলে ঠিক কখন হাসপাতাল যেতে হবে? 
সঠিকভাবে পালস অক্সিমিটার ব্যবহারের নিয়ম কি? কেন আসতে পারে ভুল রিডিং?

অতীতে অবহেলার পরও কেও হয়তো ভাগ্যক্রমে সংক্রমণের শিকার হননি। কিন্তু করোনা ভাইরাস শক্তিশালী হয়ে যাওয়ার কারণে সংক্রমণের হার এখন আরও বেড়ে যাবে। এর থেকে বাঁচার হার এখন অনেকাংশেই কম।

বিশেষজ্ঞ মি. মুশতাক আরও বলেছেন, “এক্ষেত্রে আমাদের করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ এড়াতে যে সতর্কতা পালন করতে বলা হয়েছে তা সবসময় বহাল থাকবে। একই বিধিনিষেধ সবাইকে এখন আরও সচেতনতার সাথে পালন করতে হবে। সেগুলো হচ্ছে-

-যারা করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত হচ্ছে তাদের আমরা চিকিৎসার আওতায় আনবো।

-তাদেরকে আইসোলেশন করতে সহায়তা করবো।

-আর এর বাইরে আমরা সাধারণ যারা আছি তারা সবাই সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। মাস্ক পরিধান করবো, নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখবো। যাতে করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে না পড়ে।”

এদিকে সারা বিশ্বে যখন ডেল্টা প্লাস নিয়ে আলাপ শুরু হয়েছে তখন বাংলাদেশের পরিস্থিতি ফের খারাপ হতে শুরু করেছে। নতুন নতুন রেকর্ড হচ্ছে মৃত্যু ও সংক্রমণের।

আর একারণে পরিস্থিতি সামলাতে চলমান লকডাউন কঠোরভাবে পালনের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

subscribe to our youtube channel 2

শেয়ার করুন -

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য লিখুন
আপনার নাম লিখুন